
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় থানা ও ভূমি অফিসে তদবির বাণিজ্যে বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে সাবেক এক ইউপি সদস্য। সাবেক এই ইউপি সদস্য স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা হলেও অদৃশ্য ইশারায় রয়েছে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
জানা যায়, আনোয়ারা সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা অচ্যুত শীল রনি। ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য। বর্তমানে সদর ইউনিয়ন ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। ৫আগস্ট পরবর্তী আওয়ামী লীগ নেতারা পালিয়ে গেলেও অচ্যুত শীল রনি হয়ে ওঠেছেন আরো বেপরোয়া। তার বিরুদ্ধে থানা, ভূমি অফিস, ইউএনও অফিসে তদবির বাণিজ্যের একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদবির বাণিজ্য যেন তার পেশা।
ভুক্তভোগীরা জানান, সাবেক ইউপি সদস্য হওয়ার সুযোগ নিয়ে সেবা নিতে আসা মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করছে এই আওয়ামী লীগ নেতা।
নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, আমাদের দুই পরিবারের জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। সাবেক এই ইউপি সদস্য আমাদের প্রতিপক্ষের সাথে হাত মিলিয়ে আমাদের দীর্ঘদিন ধরে হয়রানী করে আসছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অচ্যুত শীল রনির কোন পেশা না থাকলেও সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে তদবির বাণিজ্য সরব দেখা যায় এই আওয়ামী লীগ নেতাকে। বিশেষ করে তার বিরুদ্ধে জাল জালিয়াতি, ভুয়া ওয়ারিশ সনদ করার একাধিক অভিযোগ ওঠেছে। স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতাদের প্রশ্ন ৫আগস্ট পর এই আওয়ামী লীগের নেতা এখনো কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। আওয়ামী ডেভিল নেতারা পালিয়ে গেলেও সে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠছে। দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে।
ভূমি অফিসের তদবির বাণিজ্যের বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা বলেন, আমি এই উপজেলায় এখনো নতুন। আমি তাকে নির্দিষ্ট করে চিনতে পারছি না। তার জন্য কেউ হয়রানীর শিকার হলে সেবা না পেলে ভুক্তভোগীরা আমাকে অভিযোগ করলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিব।
আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মনির হোসেন বলেন, সে আপাতত কোন তালিকাভুক্ত আসামী না। কেউ হয়রানীর শিকার হলে আমরা ব্যবস্থা নিব। তার বিষয়ে খতিয়ে দেখতেছি।
এসব বিষয়ে সাবেক এই ইউপি সদস্যের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও মুঠোফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।