
রাজধানীর ঐতিহাসিক মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে খুন হওয়া ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ড দেশের সচেতন মহলে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। এ ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।
শনিবার (১২ জুলাই) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন,”মিটফোর্ডের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের মাধ্যমে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০২ এর ধারা ১০ অনুসারে এ মামলার বিচার প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের আওতায় আনা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো গড়িমসি করা হবে না।
▶ ঘটনাস্থলে যা ঘটেছিল
গত বুধবার (৯ জুলাই ২০২৫) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের তিন নম্বর গেট-সংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে ব্যবসায়ী মো. সোহাগকে (৩৮) কুপিয়ে এবং মাথায় বড় পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের সময়ের একটি ভয়াবহ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন দুর্বৃত্ত সোহাগের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালাচ্ছে এবং একজন পাথর দিয়ে তার মাথায় বারবার আঘাত করছে।
পথচারী ও স্থানীয়রা আতঙ্কে ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলে গেলেও পরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
▶ তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান
ঘটনার পরপরই কোতোয়ালি থানা পুলিশ মামলা রুজু করে এবং তদন্ত শুরু করে। শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে অভিযান চালিয়ে মামলার ৯ নম্বর আসামি টিটন গাজী (৩২) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ নিয়ে এ মামলায় মোট ৫ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার পেছনে ব্যবসায়িক বিরোধ, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং পূর্ব বিরোধের বিষয় উঠে আসছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
▶ সরকার ও প্রশাসনের অবস্থান
এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের পর সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষ, মানবাধিকার কর্মী, সুশীল সমাজ ও আইনজীবীদের ক্ষোভ প্রকাশ লক্ষ করা গেছে।
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের মন্তব্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তিনি লেখেন —”এই হত্যাকাণ্ড যেন কোনোভাবে আইনি জটিলতার কবলে না পড়ে, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”
▶ সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও নৈতিক উদ্বেগ
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর রাজধানীসহ সারাদেশে নিন্দার ঝড় উঠে।
নাগরিকরা প্রশ্ন তুলছেন, রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে, এমনকি একটি হাসপাতালের প্রবেশমুখে প্রকাশ্যে এমন বর্বর হত্যাকাণ্ড কীভাবে ঘটল?
অনেকেই লিখেছেন,
“আজ মিটফোর্ডে একজন সোহাগ খুন হলো, কাল আমাদের সন্তানরাও অনিরাপদ”।
▶ ভিকটিম পরিবার ও জনসাধারণের দাবি
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় জনগণ দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা চান, সোহাগ হত্যাকাণ্ড যেন দৃষ্টান্ত তৈরি করে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এভাবে প্রকাশ্যে খুন করতে সাহস না পায়।