
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেছেন, “বৈষম্যহীন, মানবিক ও ন্যায়ের ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে সবাইকে ‘জুলাই বিপ্লব’-এর চেতনাকে অন্তরে ধারণ করতে হবে।” তিনি বলেন, “এই চেতনা শুধু একটি আন্দোলনের স্মৃতি নয়, এটি একটি মূল্যবোধ—যেখানে গণতন্ত্র, মানবতা ও সাম্যের জন্য ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ রয়েছে।”
১৪ জুলাই (সোমবার) চট্টগ্রাম শহরের ‘জুলাই স্মৃতি উদ্যান’-এ ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র জনতার স্মরণে নির্মিতব্য স্মৃতি স্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং নির্মাণকাজের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-তরুণদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ আমাদের ইতিহাসের গর্ব। তাঁদের স্মৃতি রক্ষার্থে এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, “আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সম্ভব না হলে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। দেশে চিকিৎসা সম্ভব না হলে প্রয়োজনে বিদেশেও পাঠানো হবে। এই চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় সরকার বহন করবে। পাশাপাশি তাঁদের নগদ আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।”
জেলা প্রশাসক বলেন, “জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন বা চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন—তাঁদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের বর্তমান অর্জনের ভিত্তি।”
উল্লেখ্য, আগামী ৫ আগস্ট ২০২৫, সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় একযোগে ‘জুলাই স্তম্ভ’ উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই স্মৃতিস্তম্ভগুলো হবে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের শহীদ ও অংশগ্রহণকারীদের সম্মানে স্থায়ী স্মারক।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জুলাই আন্দোলনে আহতদের পরিবারের সদস্য, বিশিষ্ট নাগরিক ও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা একত্রিত হয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলে। এই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে একাধিক ছাত্র নিহত হন, শতাধিক আহত হন। দীর্ঘদিন পর তাঁদের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগে এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজ শুরু হলো।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অনেকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি শুধু শহীদদের সম্মান জানানোর একটি প্রয়াস নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত করার মাধ্যম।