
চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানার সামনে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২০ জুলাই) রাতভর চলা এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের একাধিক কর্মী আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে, যাদের মোবাইল ফোন ছিনতাই করা হয়।
সংঘর্ষের সূত্রপাত
ছাত্রদলের দাবি, চকবাজার থানায় আটক থাকা ছাত্রলীগ নেতা আরিফকে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা ছাড়িয়ে আনতে গেলে তারা বাধা দেয়। এই ঘটনায় প্রথমে তর্কাতর্কি এবং পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। ছাত্রদলের দাবি থানার ভিতরে শিবির ছাত্রদলের উপর হামলা করে।
অন্যদিকে ইসলামী ছাত্রশিবির বলছে, আটককৃত আরিফ একজন “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গেজেটভুক্ত আহত ছাত্রযোদ্ধা”। তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আটক করা হয়েছে এবং তাকে ছাড়াতে থানায় উপস্থিত হওয়া ছিল যৌক্তিক ও দায়িত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

সংঘর্ষের সময় এলাকায় উত্তেজনাকর পরিবেশ সৃষ্টি হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল ছুঁড়ে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা
এ সময় সংঘর্ষ কভার করতে গিয়ে তিন সাংবাদিক হামলার শিকার হন। তারা হলেন: হাসান সৈকত (সিটিজি পোস্ট),আব্দুর রহমান, ইমন (নিউজ টুডে),ওমর ফারুক (ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক)।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, রাত ১টার দিকে ঘটনাস্থলে গেলে শিবির কর্মীরা প্রথমে হাসান সৈকতের ওপর চড়াও হয়। তাকে ঘিরে ধরে গালাগাল করা হয় এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে গেলেও ছিনতাই হওয়া ফোনটি উদ্ধার হয়নি।
এরপর ইমন ও ওমর ফারুক সিএনজিতে করে চকবাজার এলাকা ত্যাগ করে চট্টশরী রোডে পৌঁছালে সেখানেও শিবির কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। ইমনের মাথায় ছুরি ধরে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়।
সাংবাদিক হাসান সৈকত বলেন, “আমি ভিডিও করছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন এসে ঘিরে ধরে গালাগাল শুরু করে ও ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। আমি আতঙ্কিত হয়ে যাই।”
আব্দুর রহমান ইমন বলেন, “চকবাজার থেকে ফেরার পথে হঠাৎ করে তারা আমাদের সিএনজি থামিয়ে মারধর করে এবং ফোন ছিনিয়ে নেয়। এমন অভিজ্ঞতা খুবই ভয়ানক।”
পুলিশের বক্তব্য
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “এখনও কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাংবাদিক সমাজের প্রতিক্রিয়া
সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনায় চট্টগ্রামের গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা বলেছেন, “এটা শুধু একজন সাংবাদিক নয়, গোটা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরই হামলা।”
পূর্বের অভিযোগ
উল্লেখ্য, চকবাজার এলাকায় পূর্বেও ছাত্রশিবির কর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংস আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এবারের ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।