
সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন।
ঢেউয়ের তীব্র আঘাতে বালিয়াড়ি ভেঙে গেছে, উপড়ে পড়েছে কয়েক হাজার ঝাউগাছ, ভেঙেছে সৈকতের বিভিন্ন স্থাপনা।
শনিবার (২৬ জুলাই) সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, একটি ওয়াচ টাওয়ার সাগরগর্ভে তলিয়ে গেছে।
শৈবাল পয়েন্টে ভেঙে পড়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর ঝাউগাছ, ফলে আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন চলতে থাকলে সৈকতের পাশে থাকা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যালয়, জেলা প্রশাসনের তথ্যকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও হুমকির মুখে পড়বে।
বনবিভাগ জানায়, ১৯৬১ সাল থেকে শুরু করে সর্বশেষ ২০১১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩০০ হেক্টরে রোপণ করা হয় প্রায় ৭.৫ লক্ষাধিক ঝাউগাছ। কিন্তু জোয়ারের তোড়ে বালু সরে যাওয়ায় ঝাউগাছের গোড়া উন্মুক্ত হয়ে ধ্বংস হচ্ছে এই সবুজ বেষ্টনী।
ডিএফও মো. নূরুল ইসলাম বলেন, “আধুনিক বাঁধ নির্মাণ করা না গেলে ঝাউবাগান ও উপকূলের স্থাপনাগুলো রক্ষা করা সম্ভব নয়।”
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, তারা প্রতিবছর জিও ব্যাগ বসিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলছেন, নিম্নচাপের কারণে উপকূলীয় জেলাগুলোতে ১-৩ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।