চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার উদ্যোগে শুক্রবার (১ আগস্ট) “জুলাই দ্রোহ মিছিল” অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলে অংশ নেয় শত শত কর্মী ও সমর্থক।
সাতকানিয়া রাস্তার মাথা মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে মিছিল শুরু হয়ে কেরানীহাট মোড় পর্যন্ত পদযাত্রা চলে। পুরো রাস্তাজুড়ে প্রতিবাদী স্লোগানে মুখর ছিল এলাকাটি।
২০২৪ সালের ১ আগস্ট তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাহী আদেশে ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সেই ঘটনার এক বছর পূর্তিতে এই কর্মসূচি আয়োজন করে সংগঠনটি। আয়োজকরা একে ‘ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের স্মারক’ হিসেবে আখ্যা দেন।
বিক্ষোভে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ
পদযাত্রা শেষে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আসিফুল্লাহ মুহাম্মদ আরমান।
তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলন কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির পৈতৃক সম্পত্তি নয়। ১৮ কোটি মানুষের বুকে জমে থাকা ক্ষোভের বিস্ফোরণ ছিল এটি। কেউ নিজের নামে লিখে ফেলতে পারবে না।”
তিনি অভিযোগ করেন, “এই আন্দোলনকে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বাপ-দাদার সম্পত্তি বানানোর চেষ্টা করছে—আমরা তা মেনে নেব না।”
আরমান আরও বলেন, “ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ছিল একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিশোধ। সরকার ভয় পেয়েছিল তরুণ সমাজের প্রতিবাদী জাগরণকে। কিন্তু বাস্তবতা হয়েছে উল্টো। এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ করেও ছাত্র-জনতার ক্ষোভ থামানো যায়নি।”
তিনি দাবি করেন, “২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে সরকারি বাহিনীর গুলিতে ও নির্যাতনে বহু ছাত্র ও সাধারণ মানুষ আহত বা নিহত হন। এখনও প্রশাসনের অনেকে পুরনো সরকারের অপশক্তির সাথে যুক্ত থেকে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।”
এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ছাত্রশিবিরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন এবং প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠে সাতকানিয়ার প্রধান সড়ক।