চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে একটি ড্রেজার মেশিন ও বিপুল পরিমাণ পাইপ ধ্বংস করেছে উপজেলা প্রশাসন।
রোববার (৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলার মাদার্শা-এওচিয়া মৌজার পশ্চিম পাহাড়সংলগ্ন গৌচছড়ি খালে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান যোগদানের পরপরই এই অভিযান পরিচালনা করেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, একটি প্রভাবশালী চক্র গৌচছড়ি খাল থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল। তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অনুমতি নেওয়ার দাবি করলেও, স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল—এই কার্যক্রম সম্পূর্ণ অবৈধ এবং পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ নিয়ে গত ৩১ জুলাই এলাকাবাসী মানববন্ধন করেন এবং বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানান।
অভিযান প্রসঙ্গে ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন,
“গৌচছড়ি খালে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে নদীভাঙন, ফসলি জমি, ফলজ বাগান, পাহাড় ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। জনস্বার্থে এসব অবৈধ কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। আমরা অভিযান চালিয়ে একটি ড্রেজার মেশিন এবং বিপুল পরিমাণ পাইপ ধ্বংস করেছি। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, খালের ধারঘেঁষে রয়েছে বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং ফলজ বাগান। অতিরিক্ত ও অগভীরভাবে বালু উত্তোলনের ফলে খালের গভীরতা ও গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে, যার ফলে বর্ষায় নদীভাঙন ও ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয়ভাবে প্রভাব খাটিয়ে বা মিথ্যা অনুমতির অজুহাতে যারা পরিবেশবিধ্বংসী কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হবে। কেউ ছাড় পাবে না।
সাতকানিয়ায় নবাগত ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান যোগদানের পরপরই প্রথম অভিযান চালিয়ে অবৈধ ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করেছেন। জনস্বার্থে এ অভিযান চলমান থাকবে বলে জানায় উপজেলা প্রশাসন।