বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির অঙ্গনে নতুন একটি নাম যোগ হলো—“গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ”। কুষ্টিয়া জেলা কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল এমন এক প্রতীকি স্থান থেকে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে ছাত্র রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত ও মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) জুমার নামাজের পর কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কয়া গ্রামে শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে সংগঠনটির জেলা শাখার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রশ্ন উঠছে, আবরারের কবর থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরুর এই উদ্যোগ কি কেবল দোয়া-মাহফিল, নাকি এর ভেতরে লুকিয়ে আছে একটি প্রতীকি বার্তা?
২০১৯ সালের অক্টোবরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হলে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় কুষ্টিয়ার কৃতিসন্তান আবরার ফাহাদকে। তার অপরাধ ছিল—সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিন্নমত প্রকাশ। সেই হত্যাকাণ্ডে ছাত্র রাজনীতির সহিংস ও কর্তৃত্ববাদী চেহারা নগ্ন হয়ে ওঠে। ফলে আবরার হয়ে ওঠেন প্রতিরোধ, ভিন্নমত এবং গণতন্ত্রের প্রতীকি নাম।
নবগঠিত গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে। তাদের ভাষ্যে, ছাত্র সমাজকে মুক্ত করা দরকার দলীয় দখলদারিত্ব, সহিংসতা ও কর্তৃত্ববাদ থেকে। আর তাই আবরারের কবর থেকে যাত্রা শুরু—এক ধরনের ঘোষণা, যে তারা অতীতের সেই দমননীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চায়।
আবরারের কবর জিয়ারতে অংশ নেন গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের কুষ্টিয়া জেলা আহ্বায়ক রিয়াদুস সালেহিন রিয়াদ, সদস্য সচিব সায়াদ ইসলাম শ্রেষ্ঠ, যুগ্ম-সদস্য সচিব তোহিদ খান আকাশ, মেহরাব ফেরদৌস, যুগ্ম-সদস্য সাইফ হাসান মল্লিক, যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্না, আশরাফি আনোয়ার আবির, মুখপাত্র জয়নাল আবেদিন জয়, মুখ্য সংগঠক সুজন মাহমুদ ও সিনিয়র সংগঠক ওয়াহিদ আহমেদ রাজ।
গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের এই কবর-জিয়ারত মূলত একটি “সাংগঠনিক কার্যক্রমের সূচনা” হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এটি একটি কৌশলগত বার্তা। আবরার যেখানে রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক দমননীতির শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন, সেখান থেকেই নতুন ছাত্রসংগঠনের সূচনা—যা ভবিষ্যতে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও এজেন্ডার ভিত্তি হতে পারে।