শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন

অব্যবস্থাপনায় চবি মেডিকেল সেন্টার, শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

চবি প্রতিনিধি, মো. সারওয়ার হোসেন
  • শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫
  • ২৫০

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের অব্যবস্থাপনা, জরুরি চিকিৎসা সেবায় ব্যর্থতা ও অ্যাম্বুলেন্স সেবার অনুপলব্ধতার অভিযোগ তুলেছে শিক্ষার্থীরা। এসব সমস্যার জবাবদিহিতা নিশ্চিত ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে তারা।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী সাঈদ মো. রেদোয়ান ও সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইফতেখার আজম তকি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোনালিসা গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় (অতিরিক্ত বমি ও মাথাব্যথা) বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে আসেন। সেখানে উপস্থিত হওয়ার পর তিনি পরপর আটবার বমি করেন। এসময় মোনালিসা ও তার রুমমেট বারবার অনুরোধ জানালেও কর্তব্যরত চিকিৎসক কোনো তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। বরং শুধুমাত্র বমি প্রতিরোধের একটি ওষুধ দিয়ে দায়সারা চিকিৎসা শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, অসুস্থ শিক্ষার্থীর অবস্থা গুরুতর হলেও অ্যাম্বুলেন্স সেবার জন্য অনুরোধ করা হলে চালক নানা অজুহাত দেখিয়ে রোগী বহনে অস্বীকৃতি জানান। বাধ্য হয়ে রিকশায় হলে ফেরার পথে শিক্ষার্থী মাথা ঘোরা অবস্থায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে। পরে রিকশাচালক দ্রুত তাকে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত এক নার্সের খারাপ ব্যবহার ও ‘বের করে দেওয়ার’ হুমকির মুখে পড়তে হয় শিক্ষার্থীকে। বিষয়টি জানার পর কয়েকজন শিক্ষার্থী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে ফিরে সহকারী প্রক্টরও অভিযোগ গ্রহণ করে বিষয়টি অবহিত হন।

দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলে স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার কি জরুরি রোগীর ট্রায়াজ, পর্যবেক্ষণ (অবজারভেশন বেড) আইভি ফ্লুইড বা প্রয়োজনীয় পরীক্ষাসহ ন্যূনতম ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে? দায়িত্বরত ডাক্তারের পেশাগত দায়: বারবার বমি (৮ বার) ও মাথাব্যথার মতো উপসর্গে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ রেফারাল না দেওয়ার বিষয়টি কেন ঘটলো?

অ্যাম্বুলেন্স সেবার দায়: জরুরি ডাকে সাড়া না দেওয়া ও ড্রাইভারের অজুহাতের জবাবদিহি কার কাছে? রিকশায় ফেরার পথে রোগীর অজ্ঞান বা পতনের ঝুঁকি থেকে সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা ঘটলে এর আইনগত ও প্রশাসনিক দায়ভার কে নিতেন? বহিরাগত প্রতিষ্ঠানে (উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স) রোগীর প্রতি অমানবিক আচরণ-এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিকার বা যোগাযোগ করবে?

মেডিক্যাল সেন্টার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে স্মারকলিপিতে ৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— মেডিকেল সেন্টারে ইমার্জেন্সি ট্রায়াজ প্রটোকল চালু।২৪/৭ নিরবিচ্ছিন্ন অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু। ফার্মেসি ও সরসাম আপগ্রেড: ন্যূনতম ইসিজি, পালস অক্সিমিটার, নেবুলাইজার, অক্সিজেন, স্ট্রেচার/হুইল চেয়ার, বসি/ডিহাইড্রেশন ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যান্ত স্টক। স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং গাইডলাইন (SOG) ও রোগীর অধিকার সনদ মেডিকেল সেন্টার ও অ্যাম্বুলেন্সে দৃশ্যমানভাবে টানানো। স্টাফ ট্রেনিং (অচরণবিধি, জরুরি সাড়া, নারী শিক্ষার্থীবান্ধব সেবা, অভিযোগ ব্যবস্থাপনা)। রেফারাল এমওইউ: চমেক হাসপাতাল/হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমমেক্সের সঙ্গে প্রটোকলভিত্তিক রেফারাল ও এসকট ব্যবস্থা।

এ বিষয়ে সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইফতেখার আজম তকি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের জরুরি চিকিৎসা সেবা একেবারেই কার্যকর নয়। এক শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হলেও যথাযথ চিকিৎসা ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়া হয়নি, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছিল। এ ধরনের অব্যবস্থাপনা শিক্ষার্থীদের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই আমরা জবাবদিহিতা ও দ্রুত উন্নয়নের দাবিতে স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। আমাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায় এবং এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক, যেখানে সবাই নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করতে পারে।”

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর