শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন

“বাংলাদেশ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত : কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংলাপে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস”

নিজস্ব প্রতিবেদক / বার্তা টুডে
  • সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ২০৪

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ এখন রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে এক বছর আগে সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ আজ যথেষ্ট স্থিতিশীল এবং নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হয়েছে।

তিনি জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। সোমবার (২৫ আগস্ট) কক্সবাজারের হোটেল বে ওয়াচে আয়োজিত তিন দিনের আন্তর্জাতিক সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন,“আমরা এখন আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আছি। এক বছর আগে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল আমাদের। এরপর ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আজ দেশ শান্ত ও স্থিতিশীল, নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।”

আন্তর্জাতিক রোহিঙ্গা সংলাপ শুরু

রোহিঙ্গা সংকটকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে তিন দিনের আন্তর্জাতিক সংলাপ— স্টেকহোল্ডার্স ডায়ালগ: টেকঅ্যাওয়ে টু দ্য হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্য রোহিঙ্গা সিচুয়েশন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংলাপের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য সাত দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা নিতে আহ্বান জানান।

ইউনূসের সাত দফা প্রস্তাব

১. দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ প্রণয়ন।
২. দাতাদের অব্যাহত সমর্থন নিশ্চিতকরণ।
৩. মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির কাছে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও জীবিকা নিশ্চিত করার আহ্বান।
৪. রোহিঙ্গাদের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ ও তাদের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
৫. আসিয়ানসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা।
৬. গণহত্যার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ।
৭. আন্তর্জাতিক আদালতে জবাবদিহিতা প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নিপীড়ন ও বাস্তুচ্যুতি থামাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু মানবিক সাহায্য নয়, রাজনৈতিক সমাধানই হবে টেকসই সমাধান।”

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ, আসিয়ান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। সংলাপের বিভিন্ন সেশনে রোহিঙ্গা শরণার্থী, স্থানীয় প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরাও মতামত দিচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের এমন উদ্যোগ বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে নতুন বার্তা পৌঁছে দেবে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর