চট্টগ্রামের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে (সওজ) বড় ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কাজ সম্পন্ন না করা সত্ত্বেও এক ঠিকাদারকে দিয়ে বিল দাখিল করানোর চেষ্টা এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) নগরের রহমতগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালায় দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১।
দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে চট্টগ্রাম সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহেদ হোসাইনের কার্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করা হয়। তবে অভিযানের সময় নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কিংবা ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা অফিসে উপস্থিত ছিলেন না।
টেন্ডারের আগেই কাজ, পরে অন্যকে বিল জমা দিতে চাপ
অভিযান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে দুদক কর্মকর্তা সায়েদ আলম জানান, নগরের অক্সিজেন মোড় থেকে হাটহাজারী পর্যন্ত এক কোটি টাকার কাজ টেন্ডার প্রক্রিয়ার আগেই এক ঠিকাদারকে দিয়ে করানো হয়। পরে টেন্ডারে অন্য ঠিকাদার কাজ পেলেও তাদের দিয়ে কাজ না করে, উল্টো বিল জমা দিতে চাপ সৃষ্টি করা হয়।
“একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিলে সই করতে অস্বীকৃতি জানায়। অথচ যারা টেন্ডারে বৈধভাবে কাজ পেয়েছে, তাদেরকে দিয়ে কোনো কাজই করানো হয়নি,” বলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, যে ঠিকাদার আগেই কাজ করেছেন তিনি টাকা পেয়ে গেছেন। এখন যারা টেন্ডারে কাজ পেয়েছেন, তাদের জোর করে বিল সই করাতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। ওই ঠিকাদার রাজি না হওয়ায় বুধবার রাতে বিভিন্ন অপরিচিত নম্বর থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
কাগজপত্র যাচাই ও তদন্ত অব্যাহত
যে ঠিকাদার বিলে সই করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, দুদক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং বিস্তারিত কাগজপত্র চেয়েছে। পুরো ঘটনার বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সায়েদ আলম।
সমাবর্তন উপলক্ষে তড়িঘড়ি কাজ
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৪ মে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সফর উপলক্ষে অক্সিজেন মোড় থেকে হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কে সৌন্দর্য্য বর্ধন ও মেরামতের কাজ করা হয়। তবে কাজের প্রকৃত মান ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে সওজের কোনো কর্মকর্তা মুখ খুলতে রাজি হননি। অভিযানের সময় তাদের অনুপস্থিতি এবং পরে নীরবতা পুরো ঘটনাকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।