
কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে আটক হওয়া ১৮ জেলে কৌশলে পালিয়ে দেশে ফিরেছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে কোস্টগার্ড ও পুলিশের হেফাজতে থাকার পর তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ মডেল থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর।
ফেরত আসা জেলেরা জানান, মঙ্গলবার মাছ ধরার সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা অস্ত্রের মুখে তাদের পাঁচটি ট্রলার মিয়ানমারের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় অন্ধকারের সুযোগে একটি ট্রলার ঘুরিয়ে পালাতে সক্ষম হন তাঁরা। ট্রলারটিতে ১৮ জন জেলে ছিলেন, যার মধ্যে ৮ জনকে অন্য ট্রলার থেকে জোরপূর্বক তুলে দেওয়া হয়েছিল।
জেলে শফিক বলেন, “আমাদের ট্রলারে দুজন আরাকান আর্মির সদস্য ছিল। আমরা ট্রলার ঘুরিয়ে দিলে বিষয়টি টের পেয়ে তারা সাগরে ঝাঁপ দিয়ে মিয়ানমারের দিকে সাঁতরে চলে যায়।”
পালিয়ে আসা ট্রলারটির মালিক শাহপরীর দ্বীপের মিস্ত্রিপাড়া ঘাট ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাসান জানান, তার ট্রলারটি ১০ জেলে নিয়ে সাগরে গিয়েছিল। পরে আরাকান আর্মি আরও ৮ জনকে সেই ট্রলারে তুলে দিয়ে অস্ত্রের মুখে মিয়ানমারের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। অন্ধকারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে জেলেরা প্রাণ বাঁচিয়ে ফিরে আসতে সক্ষম হন।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর বলেন, কোস্টগার্ড প্রথমে তাদের হেফাজতে নেয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের জলসীমার কাছাকাছি মাছ ধরতে না যাওয়ার বিষয়ে জেলেদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।