সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন

ইয়াছিন বাহিনীর ভয়ে মানবেতর জীবন, সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী রাজুর আর্তনাদ

বার্তা টুডে ডেস্ক
  • শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২১৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর আলী নগরে ভূমিদস্যু ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন বাহিনীর হামলায় কোটি টাকার ক্ষতির শিকার হয়েছেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান রাজু। হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে তার দুটি দোকান ও বসতবাড়ি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরেন চট্টগ্রাম মহানগর বাস্তহারা দলের সাধারণ সম্পাদক রাজু। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় তার প্রায় ৯৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

হামলার ঘটনা

ব্যবসায়ী রাজু জানান, গত ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে ইয়াছিনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা ছিন্নমূল গোলাপের দোকান মোড়স্থ তার প্রথম দোকানে হামলা চালায়। তারা ভাঙচুর ও লুটপাট করে, নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে যায় এবং দোকানের সামনে থাকা দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এরপর ৩১ আগস্ট দুপুরে তার বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে দরজা-জানালা ভাঙচুর, আলমারিতে থাকা তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করা হয়। একই রাত ১টা ৪০ মিনিটে তার দ্বিতীয় দোকানেও হামলা চালানো হয়।

মামলা হলেও গ্রেপ্তার হয়নি

এই ঘটনায় রাজুর স্ত্রী রুনা আক্তার বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় ইয়াছিনসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৫০-৬০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন। তবে এখনো ইয়াছিন বা তার সহযোগীরা গ্রেপ্তার হয়নি। এতে তারা আরও হিংস্র হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেন রাজু। তিনি বর্তমানে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ইয়াছিন বাহিনীর দৌরাত্ম্য

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে প্রায় দুই দশক আগে ইয়াছিন ও তার সহযোগী ফারুক চট্টগ্রামে এসে জঙ্গল সলিমপুরে বসতি গড়ে। শুরুতে অটোরিকশা চালালেও পরে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি, অবৈধ প্লট বানানো ও বিদ্যুৎ সংযোগে চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল অর্থসম্পদ অর্জন করে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়। তারা এলাকার নামও বদলে দেন ‘আলী নগর’।

অভিযোগ রয়েছে, আলী নগরে প্রবেশে অনুমতি, স্থানীয়দের জন্য বিশেষ পাসকার্ড, বাইরেরদের ভোটার আইডি ও মোবাইল জমা দেওয়ার নিয়ম চালু করেছিল ইয়াছিন বাহিনী। থানায় মামলা করা ছিল নিষিদ্ধ, সব বিচার চলত তাদের নিজস্ব আদালতে।

মামলা-অভিযোগের ইতিহাস

ইয়াছিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে—

২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়ের করা ৭-৮টি মামলা,

সীতাকুণ্ড, বায়েজিদ ও হাটহাজারী থানায় ভুক্তভোগীদের দায়ের করা অন্তত ৮টি মামলা,

২০২২ সালে জেলা প্রশাসনের অবৈধ পাহাড় উচ্ছেদ অভিযানে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া ৭টি মামলা,

২০২৫ সালে র‍্যাবের ওপর ইয়াছিন বাহিনীর হামলার মামলা,

এছাড়া ২০১৭ সালের একাধিক হত্যা মামলা।

সংবাদ সম্মেলনে রাজু স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ইয়াছিনকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সার্ভেয়ার মুজিবুর রহমান, রুনা আক্তার, জামাল উদ্দিন, মাইমা, রাশেদা আকতার, আবদুল হালিম, পান্না মল্লিক ও আবদুল শুক্কুর।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর