শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে স্থান পাচ্ছে শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দুঃশাসনের ইতিহাস

বার্তা টুডে ডেস্ক
  • রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৫৪

শেখ হাসিনার শাসনামলের ১৬ বছরের দুঃশাসনের নানা ঘটনা তুলে ধরা হবে আসন্ন জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে। পিলখানা হত্যাকাণ্ড, গুম-খুন, শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ, ভোট ডাকাতি, আয়নাঘরসহ নানা নৃশংসতার প্রামাণ্য দলিল, অডিও-ভিজ্যুয়াল উপকরণ এবং গবেষণালব্ধ তথ্য সেখানে সংরক্ষণ করা হবে।

শনিবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জাদুঘর নির্মাণ কর্তৃপক্ষ প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে এ তথ্য জানান।

সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বৈঠকে বলেন, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে জাদুঘরের নির্মাণকাজ শেষ করা হবে এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এর উদ্বোধন সম্ভব হবে। তিনি জানান, “ষোলো বছরের ফ্যাসিজমের ইতিহাস জীবন্ত রাখতে এই জাদুঘরে প্রতিটি ঘটনা সিকোয়েন্স আকারে সাজানো হবে। দর্শনার্থীরা প্রত্যক্ষ করতে পারবেন, কীভাবে সরাসরি গণভবনের নির্দেশে গুম, খুন, নির্যাতন ও দমননীতি চালানো হতো।”

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস নির্মাণ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এই জাদুঘর মানুষকে ৫ আগস্ট গণভবনে জনতার ঢল এবং দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধের চেতনা মনে করিয়ে দেবে। মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা জোগাবে।”

জাদুঘরের চিফ কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব জানান, আইসিটি প্রসিকিউশন টিম ও গুম তদন্ত কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। তিনি বলেন, “গুমের নির্দেশ দেওয়া অনেক অডিও ইতোমধ্যেই আমাদের হাতে এসেছে। এগুলো জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে। শেখ হাসিনা কীভাবে গুমের শিকার পরিবারগুলোকে মিথ্যা সান্ত্বনা দিতেন, সেই চিত্রও দর্শকদের সামনে আসবে।”

এছাড়া জাদুঘরে একটি স্ক্রিনিং সেন্টার থাকবে, যেখানে জুলাই এবং ১৬ বছরের দুঃশাসন নিয়ে নির্মিত ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হবে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন—

গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম

গুম কমিশনের সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস

গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম

সংস্কৃতি বিষয়ক সচিব মো. মফিদুর রহমান

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের গভর্নিং বডির চেয়ারপারসন মেরিনা তাবাসসুম

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের গবেষক ও শিল্পীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড্যানিয়েল আফজালুর রহমান, কবি হাসান রোবায়েত, মালিহা নামলাহা, শিল্পী তেজশ হালদার জশ, মোসফিকুর রহমান জোহান, স্থপতি সালাউদ্দিন আহমেদ এবং সমন্বয়কারী হাসান এনাম।

জাদুঘরের উদ্যোক্তারা আশা করছেন, এটি হবে একটি অনন্য প্রামাণ্য দলিলের ভাণ্ডার, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শেখ হাসিনার শাসনামলের সত্য ইতিহাস জানাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর