
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার উত্তর ঢেমশা বড়ুয়াপাড়া হয়ে চৌধুরীহাট সংযোগ সড়কটি বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় এখন সম্পূর্ণ বেহাল অবস্থায় পড়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচলকারী প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটির অধিকাংশ জায়গা এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে প্রায় ৭৮০ মিটার অংশে কার্পেটিং করা হলেও বর্তমানে সেটিও উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উত্তর ঢেমশা, সিকদারবাড়ি, বড়ুয়াপাড়া ও মরিচ্চাপাড়াসহ আশপাশ এলাকার মানুষ। বিশেষ করে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করছেন।
বড়ুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দারা বলেন, “যখন ভোট আসে তখন আমাদের দেখতে আসেন জনপ্রতিনিধিরা, কিন্তু নির্বাচন শেষে কেউ আর খোঁজ রাখেন না। বছরের পর বছর এই রাস্তার কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্ষা মৌসুমে কাদামাটিতে চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে।” তারা দ্রুত ঢালাই বা কার্পেটিং করে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান।

উত্তর ঢেমশা এলাকার মো. ইসমাইল (খাদেম) বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকেই এই রাস্তা অবহেলিত। অনেকবার প্রতিশ্রুতি পেয়েও বাস্তবে কিছু হয়নি। রাস্তাটি ছাড়াও পাশে একটি পুরনো ব্রিজ রয়েছে, সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। উভয়টিরই সংস্কার প্রয়োজন।”
অন্যদিকে মরিচ্চাপাড়া এলাকার আব্দুল মালেক জানান, “কেরানীহাট থেকে ঢেমশা হয়ে মরিচ্চাপাড়া যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি এটাই। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এখন তা ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মরিচ্চাপাড়া ঢেমশার শেষ সীমানা, এখান থেকে নলুয়া ইউনিয়ন শুরু হয়, তাই আমরা অনেকটা অবহেলিত। অন্তত ঢেমশার শেষ পর্যন্ত রাস্তার সংস্কার চাই।”
এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে বলেন, “রাস্তাটি আমরা পরিদর্শন করেছি এবং তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুতই সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বহু প্রতীক্ষিত এই সড়কটির সংস্কার কাজ শিগগিরই শুরু হবে— যাতে করে তারা আবারও নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন।