চট্টগ্রামের রাউজান ও হাটহাজারী অঞ্চলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিএনপি নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম চৌধুরীর (৫৫) হত্যাকাণ্ডের পর। বুধবার বিকেল ৫টার পর রাউজানের পাচখাইন দরগাহ স্কুল মাঠে তাঁর নামাজে জানাজায় কয়েক হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
এই জানাজায় অংশ নেন উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য জননেতা আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, তাঁর সন্তান সামির কাদের চৌধুরী ও সাকির কাদের চৌধুরী, জেলা বিএনপি নেতা আবু জাফর চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হুদা চেয়ারম্যান, ফিরোজ আহমেদ, সৈয়দ মনজুরুল হক, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সাবের সুলতান কাজল, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইউছুফ তালুকদার, ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আজম ছোটনসহ জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নের হাজারো নেতা–কর্মী।
স্থানীয়দের মতে, রাউজানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় জানাজার উপস্থিতি। শোকাহত নেতা–কর্মীরা চোখের জলে তাদের প্রিয় সহযোদ্ধাকে শেষ বিদায় জানান।
গিয়াস কাদের চৌধুরীর আবেগঘন বক্তব্য
জানাজার ময়দানে কান্না জড়ানো কণ্ঠে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, “হাকিমের দলের জন্য অবদান কখনো ভোলার নয়। যারা ছোট ছোট সন্তানকে এতিম করেছে, তারা মানুষ নয়। যতক্ষণ নিশ্বাস আছে, এই হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমি থামব না।”
তিনি আরও বলেন, “হাকিম শুধু রাজনীতিক নন, ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিক। তাঁর রক্ত বৃথা যাবে না।”
রাউজান উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদ বলেন, “আবদুল হাকিম ছিলেন নিরব দানবীয়, সৎ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ। তাঁর মৃত্যুর শোকে আজ রাউজান বাকরুদ্ধ।”
হত্যাকাণ্ডে আটক ৪
চট্টগ্রামের হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজ জানিয়েছেন, “মদুনাঘাটে আবদুল হাকিম হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে মামলায় আসামি করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “পরিবারের পক্ষ থেকে বুধবার হাটহাজারী থানায় মামলা করার কথা জানিয়েছেন।”
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাউজানের বাড়ি থেকে শহরে ফেরার পথে হাটহাজারীর মদুনাঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা আবদুল হাকিম চৌধুরীর গাড়ি লক্ষ্য করে কাছ থেকে ১০ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। নিহত হাকিম চৌধুরী ছিলেন রাউজান উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা এবং গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহচর।
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতেই স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা বিক্ষোভ ও কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করে। রাউজান ও আশপাশের এলাকায় নেমে আসে শোক ও ক্ষোভের ছায়া।
প্রচার বিমুখ, দানবীর ও দলনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত আবদুল হাকিম চৌধুরীকে হাজারো নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী অশ্রুসিক্ত বিদায় জানান। জানাজার পর তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।