শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন

ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে চবিতে মানববন্ধন

বার্তা টুডে ডেস্ক
  • শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২১৯

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে ২৪ অক্টোবর (শুক্রবার) বিকেল দুইটায় শিক্ষার্থীরা ইসকন (ISCKON) নিষিদ্ধের দাবি নিয়ে মানববন্ধন করেছেন। চবিয়ান দ্বীনি পরিবারের ব্যানারে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে শহীদ আলিফ হত্যার দ্রুত বিচার, গাজীপুরে মসজিদের খতিবকে গুম করে হত্যার চেষ্টা এবং সারাদেশে মুসলিম মেয়েদের প্রতি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইসকনকে দায়ী করে তা বন্ধ ও নিষিদ্ধ করার দাবি উন্নীত করা হয়।

মানববন্ধনে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আদনান রাশাদ বলেন, “গাজীপুরে আশা মনি ও মসজিদ খতিব সংক্রান্ত ঘটনার পেছনে ইসকনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। ভারতের মদদপুষ্ট উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকন বিভিন্ন দিন ধরেই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল—অতএব সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে তারা ভিন্ন মতাবলম্বীর ধর্মীয় স্থান দখল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ এসেছে।”

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাবিত তালুকদার বলেন, “কালিয়াকুড়ের শিশু আশা মনিকে ধর্ষণ, মসজিদের খতিবকে গুম করে হত্যার চেষ্টা—এসব ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। এ ধরনের অপরাধ জাতি ও ধর্ম নির্বিশেষে শাস্তির দাবি রাখে।”

চবিয়ান দ্বীনি পরিবারের জিম্মাদার ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার জাওয়াদ হাসান মানববন্ধনে সাত দফা দাবির একটি ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তাদের সাত দফা দাবি নিম্নরূপ (মূল বক্তব্য অনুসারে সংক্ষেপিত) —

চাবি দাবিসমূহ।…..

১. পুলিশ হেডকোয়ার্টারের প্রকাশিত আশা মনি ঘটনাসংক্রান্ত ফেসবুক স্ট্যাটাস প্রত্যাহার ও ক্ষমা প্রার্থনা, এবং ঘটনার সাথে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের তদন্ত ও শাস্তির আওতায় আনা।
২. শিশু আশা মনি ধর্ষণের অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা।
৩. শহীদ আলিফ হত্যার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার, জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি।
৪. জঙ্গী/সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ইসকনকে জাতীয়ভাবে নিষিদ্ধ ও নির্মূল করার দাবি।
৫. বুয়েটের অভিযুক্ত ও অন্যান্য ইসকন সংশ্লিষ্ট ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তি কার্যকর করা।
৬. টঙ্গীর ইমাম অপহরণ, পারিবারিক সম্মানহানি ও ভারতে পাচারের যে অভিযোগ আছে — সেগুলো তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা।
৭. ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে ন্যারেটিভ গঠনকারী আকাশ দাসকে চাকসু থেকে পদত্যাগ করানো এবং চাকসু ও নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বাণী ও স্লোগান দেন—যেমন “ইসকন তুই জঙ্গি, ফ্যাসিবাদের সঙ্গী”, “আলিফ হত্যার বিচার চাই, জঙ্গি ইসকন নিষিদ্ধ চাই”, “আমার সোনার বাংলায় ধর্ষকদের ঠাঁই নেই” ইত্যাদি। আয়োজকরা জানিয়েছেন, যদি তাদের দাবি বাস্তবায়ন না করা হয় তবে তারা সম্পৃক্ত অন্যান্যকারী ও রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আরও তীব্র কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা বিভাগের শিক্ষার্থী ও কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকরা বলেন, তাদের মূল দাবি হলো দেশের সংবিধানগত ও সামাজিক শান্তি রক্ষা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে অপরাধীদের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর