
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (২০২৫–২০২৭) দ্বিবার্ষিক নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে ‘সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ’। বুধবার দুপুরে নগরীর রেডিসন ব্লু বেলভিউ হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্যানেল লিডার এস. এম. নুরুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার প্রকাশ করেন।
নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মো. কামরুল হুদা, মোহাম্মদ আইয়ুব, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, এস. এম. কামাল উদ্দিন, এটিএম রেজাউল করিমসহ প্যানেলের নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান শাহজাহান মহিউদ্দিন।

‘জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক চেম্বার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি
ইশতেহার ঘোষণা করে প্যানেল লিডার এস. এম. নুরুল হক বলেন, “চট্টগ্রাম চেম্বারকে জবাবদিহিতামূলক, ব্যবসায়ীবান্ধব ও বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষা, ভ্যাট-ট্যাক্স জটিলতা নিরসন ও ডিজিটাল সমাধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামের বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড—এই শহরের উন্নয়ন ছাড়া জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। আমরা এমন চেম্বার চাই, যা বাস্তবে ব্যবসায়ীদের কথা বলবে এবং তাদের হয়ে নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।”
ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারসমূহ
ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার : ভ্যাট, ট্যাক্স, রিটার্ন ও আইনি সহায়তা এক স্থানে।
ডিজিটাল পোর্ট ম্যানেজমেন্ট : বন্দর কার্যক্রম সহজীকরণ ও সময়–ব্যয় কমানো।
এসএমই উন্নয়ন : সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত ও নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা তহবিল।
দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ : হিসাবরক্ষণ, ই-কমার্স, ডিজিটাল মার্কেটিং, ব্যবসা ব্যবস্থাপনা।
ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত : বাজারে একচেটিয়াত্ব রোধে কার্যকর ভূমিকা।
ব্যবসায়ী কল্যাণ তহবিল : অসুস্থ/ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের জরুরি সহায়তা।
চেম্বারের পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন : সদস্যপদ, নবায়ন, সার্টিফিকেট, অভিযোগ—সব অনলাইনে।
লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ডেস্ক : প্রশাসনিক হয়রানি মোকাবিলায় আইনি সহায়তা।
অবকাঠামো উন্নয়ন আন্দোলন : সড়ক–বন্দর–শহর উন্নয়নে ব্যবসায়ী মতামত অন্তর্ভুক্ত।
সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন—চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যতীত দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সদস্যদের ভোটে বিজয়ী হলে তারা ব্যবসায়ীদের প্রকৃত সমস্যা সমাধান, নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে চট্টগ্রামকে আরও শক্ত অবস্থানে নিতে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।