বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৩৪ অপরাহ্ন

মশলা হিসেবে ঘোষণা, পপি সিডে ধোঁকা: কাস্টমস হাউসের অভিযান সফল

জাহাঙ্গীর আলম
  • বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১১৬

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখা চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানি হওয়া নিষিদ্ধ পণ্য ২৪,৯৬০ কেজি পপি সিড (Poppy Seed) আটক করেছে। এটি দুইটি কন্টেইনারে পাকিস্তান থেকে আমদানি করা হয়েছিল। আটককৃত পণ্যটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

মেসার্স আদিব ট্রেডিং-এর পক্ষ থেকে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এম, এইচ, ট্রেডিং কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লিমিটেডের মাধ্যমে কন্টেইনার দুটির খালাসের জন্য বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়। পণ্যচালানটি ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরে আসে এবং খালাসের জন্য ছাবের আহমেদ টিম্বার কোম্পানি লিমিটেডের অফডক চট্টগ্রামে রাখা হয়।

কিন্তু গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রামের এআইআর শাখা কন্টেইনার দুটির খালাস স্থগিত করে। ২২ অক্টোবর ডিপো কর্তৃপক্ষের ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষার সময় ৭,২০০ কেজি বার্ড ফুড ও ২৪,৯৬০ কেজি পপি সিড পাওয়া যায়।

নমুনা সংগ্রহ করে উদ্ভিদ সংরক্ষণ দপ্তর, সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানোপ্রযুক্তি সেন্টার এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে পাঠানো হয়। ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত করা হয়েছে যে, পণ্যটির একটি অংশ পপি সিড (Poppy Seed), যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ‘ক’ শ্রেণির মাদক হিসেবে বিবেচিত।

পরিদর্শনে দেখা যায়, কন্টেইনারের দরজার পাশে শুরুর দিকে ৭,২০০ কেজি বার্ড ফুড দিয়ে ২৪,৯৬০ কেজি পপি সিড ঢেকে রেখে কৌশলে অবৈধ আমদানি করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমদানির সময় চালানটি মশলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল, যা ভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।

পপি সিড আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত (আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪, অনুচ্ছেদ ৩(১)(খ) ধারা)। কাস্টমস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী পণ্যচালানটি আটক করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, “জনস্বার্থ রক্ষার জন্য বাংলাদেশ কাস্টমস সর্বদা সতর্ক। নিষিদ্ধ পপি সিড আটক করা এই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রমাণ। আমরা অবৈধ ও বিপজ্জনক পণ্যের আমদানি রোধে তৎপর থাকব।”

আলোচ্য চালানের ঘোষিত মূল্য ছিল ৩০,০২,৪৮২ টাকা, কিন্তু কায়িক পরীক্ষায় প্রাপ্ত পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ ঘটনা প্রমাণ করে, দেশীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে কাস্টমসের তৎপরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের এই পদক্ষেপ দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ পণ্যের আমদানি রোধে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে ধরা হচ্ছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন এবং কাস্টমস আরও অভিযান অব্যাহত রাখবে যাতে দেশের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ রক্ষা করা যায়।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর