বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৫০ অপরাহ্ন

রাউজান আধিপত্য বিরোধ: ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম খুনের মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেফতার

বার্তা টুডে ডেস্ক
  • বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১১৮

চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী মডেল থানাধীন মদুনাঘাট এলাকায় ৭ অক্টোবর সংঘটিত ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার দিন সকালে নিহত আব্দুল হাকিম নিজ প্রাইভেটকারে হামিম এগ্রো ফার্মে যান। বিকেলবেলায় চট্টগ্রাম শহরে ফেরার পথে মদুনাঘাট ব্রিজের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেলযোগে তার গাড়ির সামনে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হাকিম গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে পৌঁছার আগেই মৃত্যুবরণ করেন।

ঘটনার পরপরই জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম-বার-এর দিক-নির্দেশনায় পুলিশ একটি যৌথ বিশেষ অভিযান চালায়।

৩১ অক্টোবর ২০২৫: রাউজান থানাধীন বাগোয়ান ইউনিয়নের গরীব উল্লাহ পাড়া এলাকা থেকে মোঃ আব্দুল্লাহ খোকন (প্রকাশ ল্যাংড়া খোকন) গ্রেফতার হন। জিজ্ঞাসাবাদে খোকন হত্যায় সম্পৃক্ততা স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

২ নভেম্বর ২০২৫: খোকনের তথ্য অনুযায়ী রাউজান থানাধীন নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরীহাট এলাকা থেকে মোঃ মারুফ গ্রেফতার হন। তিনি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন।

৪ নভেম্বর ২০২৫: হাটহাজারী থানার একটি বিশেষ টিম রাউজান থানাধীন নোয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোঃ সাকলাইন হোসেনকে গ্রেফতার করে। তার হেফাজত থেকে দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক, একটি এলজি ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাউজান থানাধীন বালুমহলের নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে।

পুলিশি মন্তব্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা: চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, “উক্ত হত্যাকাণ্ডসহ চট্টগ্রাম জেলায় সংঘটিত সকল ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতার এবং অস্ত্র উদ্ধারের জন্য আমরা সর্বোচ্চ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছি। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমন আমাদের অগ্রাধিকার।”

তিনি আরও জানান, নোয়াপাড়া, চৌধুরীহাট ও আশপাশের এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন, পুলিশি টহল, বিশেষ অভিযান এবং রাত্রীকালীন সাঁড়াশি তল্লাশি কার্যক্রম চলছে। এছাড়া পুলিশ ইতোমধ্যেই ১০-১২ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে, যাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর