বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৩১ অপরাহ্ন

রাজনীতিতে বিভেদ নয়, ঐকমতই হতে হবে মূল ভিত্তি: আমীর খসরু

বার্তা টুডে ডেস্ক
  • শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১২২

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দীর্ঘ আলোচনার পর যে ঐকমতে পৌঁছানো হয়েছে, সেটি মেনে নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। ঐকমতের বাইরে গিয়ে কথা বললে রাজনীতি ও সমাজে বিভেদ বাড়বে, যা গণতন্ত্রের বিকাশে অন্তরায়।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নবনির্মিত ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু বলেন, “আজ একটি ঐকমতের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সংলাপ হয়েছে। এটি গণতন্ত্রকে যেমন এগিয়ে নেয়, তেমনি সমাজকেও সামনে নিয়ে যায়। আমরা একে অপরের সঙ্গে কথা বলা থেকে অনেক দূরে সরে গেছি, বিশেষ করে গত ১৫ বছরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে সবাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। সংলাপের মাধ্যমে সেই ভাঙন কাটিয়ে উঠতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সংলাপ করবো, ঐকমতে পৌঁছব যতটুকু সম্ভব। যেখানে ঐকমত হবে না, সেখানেও সহনশীলতা বজায় রাখতে হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে শুধু সরকার নয়, সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন। প্রত্যেকে নিজের অবস্থান থেকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখলে দেশ এগিয়ে যাবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও  মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা শাহাদাত হোসেন বলেন, “ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক ছিলেন এক দূরদর্শী মানুষ, যিনি দৈনিক আজাদীর মাধ্যমে বিশ্বাস করতেন—একদিন এই দেশ স্বাধীন হবে। আমরা সেই স্বপ্নের স্বাধীন দেশের নাগরিক হতে পেরে গর্বিত।”

তিনি আরও বলেন, “মানবিক মর্যাদা, আইনের শাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আদর্শেই আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। এখন গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে সেই আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হবে।”

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি দৈনিক আজাদী পত্রিকার সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, “আমাদের দেশে একটি অদ্ভুত বিভাজন তৈরি হয়েছে—ঢাকা থেকে প্রকাশিত হলে পত্রিকাকে বলা হয় ‘জাতীয়’, আর ঢাকার বাইরে থেকে বের হলে তা ‘মফস্বল পত্রিকা’। এটি এক ধরনের বৈষম্য।”

তিনি বলেন, “অনেকে বলেন, আজাদী যদি ঢাকায় গিয়ে প্রকাশ হয় তাহলে জাতীয় পত্রিকা হবে। কিন্তু আমার বাবা এই পত্রিকা চালু করেছিলেন চট্টগ্রামের মানুষের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা সরকারের সামনে তুলে ধরার জন্য, ঢাকায় গিয়ে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য নয়। কারণ আমরা চট্টগ্রামের মানুষকে ভালোবাসি, এই ভালোবাসার বন্ধনেই আজও আজাদী টিকে আছে।”

দৈনিক আজাদীর অর্থায়নে ও পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মিলনায়তনটি সংস্কার ও ডিজাইন করা হয়।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচি, আর সঞ্চালনা করেন অন্তর্বর্তী কমিটির সদস্য গোলাম মওলা মুরাদ।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন দৈনিক আজাদীর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক, কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ) বাংলাদেশ চাপ্টারের চেয়ারম্যান ওসমান গণি মনসুর, প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সদস্য মঈনুদ্দিন কাদেরী শওকত, দৈনিক আজাদীর নির্বাহী সম্পাদক শিহাব মালেক, বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ান, সিএমইউজের সাধারণ সম্পাদক সালে নোমান, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার, এ্যাবের সভাপতি জানে আলম সেলিম ও বাসসের বিশেষ প্রতিনিধি মিয়া মোহাম্মদ আরিফ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মোহাম্মদ হোসাইন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, রাজনীতিক, পেশাজীবী ও বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর