বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:১৪ অপরাহ্ন

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নে গণভোট ও নির্বাচন একসাথে: প্রধান উপদেষ্টা

বার্তা টুডে ডেস্ক
  • বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬৫

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এসে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ অনুমোদনের ঘোষণা দিয়েছেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর ২০২৫) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন,“গত বছর আগস্টে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিবলে আমরা অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেছিলাম। তখন আমাদের দায়িত্ব ছিল হত্যাকাণ্ডের বিচার, গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন।”

তিনি জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শিগগিরই প্রথম রায় ঘোষণা করবে। পাশাপাশি গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর বিচারকাজও শুরু হয়েছে—যা দেশের ইতিহাসে প্রথম।

অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সম্পন্ন করেছে।

প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, “ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকার এসব সংস্কার সংসদে আলোচনার মাধ্যমে অনুমোদন করবে।”

প্রধান উপদেষ্টা জানান, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ক গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের দিনই জনগণ গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদে লিপিবদ্ধ সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে মতামত জানাবেন।”

ভাষণে তিনি জনগণের সামনে গণভোটে উপস্থাপিত প্রশ্ন পাঠ করে শোনান। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১️, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠন,
২️, সংসদে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা,
৩️, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমা ও বিরোধীদলের ক্ষমতা বৃদ্ধি,
৪️, বিচার বিভাগ ও মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ,
৫️, নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি ও স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালীকরণ।

গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে ‘হ্যাঁ’ পাওয়া গেলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে, যা ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশোধিত সংবিধান প্রণয়ন করবে।

প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন নয় মাসের পরিশ্রমে ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্কার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, “এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য অর্জন, যা ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করবে।”

অভ্যুত্থান-পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “গত ১৫ মাসে আমরা অর্থনীতিকে গভীর সংকট থেকে টেনে তুলেছি। রপ্তানি, রিজার্ভ ও বিনিয়োগসহ সব সূচকেই ইতিবাচক প্রবণতা ফিরে এসেছে।” তিনি জানান, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (FDI) গত এক বছরে ১৯.১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে—যা বৈশ্বিক প্রবণতার বিপরীত।

আগামী সপ্তাহে ডেনমার্কভিত্তিক মায়ার্স্ক গ্রুপের সহযোগী APM টার্মিনালস লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পে ৫৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করবে। এটি হবে ইউরোপের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ একক বিনিয়োগ।

ভাষণের শেষাংশে প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীর প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জুলাইয়ে যে ঐক্য সৃষ্টি হয়েছিল, আমরা যেন ক্ষুদ্র বিবাদে সেই মর্যাদা নষ্ট না করি।
১৩৩ শিশু, শত শত তরুণ-তরুণীর আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমাদের ভিন্নমতের প্রতি সহিষ্ণু হতে হবে।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে থেকে একটি উৎসবমুখর ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করবে এবং বাংলাদেশ নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।

“আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছি,”
—এই ঘোষণা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণ শেষ করেন এবং মহান আল্লাহর প্রতি দেশের মঙ্গল কামনা করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর