
চট্টগ্রামের উপকূলীয় উপজেলা বাঁশখালীতে কোস্ট গার্ডের দুঃসাহসিক অভিযানে কুখ্যাত মনসুর বাহিনীর পাঁচ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ৮ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ফাঁকা কার্তুজ ও ৮টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর ২০২৫) দুপুরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
কোস্ট গার্ড জানায়, বাঁশখালী থানাধীন নতুন বাজার সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কুখ্যাত মনসুর বাহিনী অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, জমি দখল ও আধিপত্য বিস্তারের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাহিনীর সদস্যরা প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদেরকে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হতো।
অসহায় জনগণ বিষয়টি কোস্ট গার্ডকে অবহিত করলে সংস্থাটি এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় এবং সন্ত্রাসী বাহিনীকে ধরতে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ভোররাত ৩টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড চট্টগ্রাম বেইজের একটি বিশেষ দল অভিযান চালায়।
অভিযানে ৫ জন সক্রিয় সন্ত্রাসীকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়। এসময় একদল অজ্ঞাত সন্ত্রাসী কোস্ট গার্ডের গাড়িতে আতর্কিত হামলা চালিয়ে আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ড সদস্যরা ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরবর্তীতে অভিযান শেষে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
আটক সন্ত্রাসীরা হলেন—
১️, আবু নছর চৌধুরী (৪৪)
২️, আব্দুল কাদের (৪০)
৩️, মোঃ জমির আহমদ (৫৫)
৪️, মোঃ জিয়াউর রহমান (৫০)
৫️, মোঃ সোহেল (২১)
তারা সবাই বাঁশখালী থানার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং কুখ্যাত মনসুর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য বলে কোস্ট গার্ড জানিয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বলেন, “উপকূলীয় অঞ্চলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সবসময় তৎপর। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
জব্দ করা অস্ত্র ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
বাঁশখালীর স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই অভিযান এলাকায় স্বস্তির বাতাস এনেছে। বহুদিন পর তারা আবারও নিরাপদ বোধ করছেন। তাদের দাবি, মনসুর বাহিনীর পলাতক সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতার করে এলাকায় স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনা হোক।
চট্টগ্রামের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল—বিশেষ করে বাঁশখালী, আনোয়ারা ও সন্দ্বীপ—দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, জলদস্যুতা ও চাঁদাবাজির কারণে অস্থিতিশীল ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানগুলো শুধু সন্ত্রাস দমনেই নয়, বরং জনআস্থা পুনরুদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।