বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:১৬ অপরাহ্ন

বাঁশখালীর উন্নয়নে জাফরুলের অবদান স্মরণ, আগামীর রূপরেখা তুলে ধরলেন আমীর খসরু

বার্তা টুডে ডেস্ক
  • শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১১৮

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মরহুম আলহাজ্ব জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর স্মরণ সভায় বক্তারা বলেছেন—তিনি ছিলেন সৎ, ত্যাগী, জনপ্রিয় এবং সংগ্রামী এক রাজনীতিক, যাঁর নেতৃত্ব ছিল দেশ ও মানুষের কল্যাণের জন্য নিবেদিত। তারই স্মৃতি ও আদর্শ সামনে রেখে বাঁশখালীকে এগিয়ে নিতে হবে।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বিকেলে বাঁশখালী জলদি পাইলট হাই স্কুল মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বিএনপির শীর্ষনেতারা বাঁশখালীর গুণাগরিতে মরহুমের কবর জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মরহুমের সন্তান ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “জাফরুল ইসলাম চৌধুরী শুধু জনপ্রতিনিধি ছিলেন না, তিনি ছিলেন আদর্শিক লড়াকু নেতা। ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে গত ১৭ বছরের প্রতিটি আন্দোলনে তিনি সামনে ছিলেন। অসুস্থ অবস্থাতেও কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন—এটাই তার রাজনীতির প্রকৃত পরিচয়।”

তিনি বলেন, বাঁশখালীর মানুষ এমন একজন নেতা পেয়েছিলেন, যার জায়গা পূরণ করা কঠিন। তারই আদর্শকে ধরে রেখে বাঁশখালী কোন দিক এগোবে—এ সিদ্ধান্ত এখন জনগণকেই নিতে হবে।

আমীর খসরু বলেন,“ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মিশকাতুল ইসলাম পাপ্পা তার পিতার নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে। জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের রাজনীতির পথ অনুসরণ করে বাঁশখালীকে এগিয়ে নেবে।”

তিনি দাবি করেন, নির্বাচন ব্যাহত করতে একটি মহল অপচেষ্টা চালাচ্ছে। “পরাজিত শক্তি কখনোই নির্বাচনে জিততে পারবে না, তাই তারা ভোট বিলম্বিত করতে নানা ষড়যন্ত্র করছে।”

আমীর খসরু বলেন,“চোখ-কান খোলা রাখতে হবে, প্রতিদিন গণসংযোগ বাড়াতে হবে, উঠান বৈঠক করতে হবে। মা–বোনদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। ধানের শীষের জোয়ার সারা দেশে তুলতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশ চলতে পারে না। ১৪ মাস ধরে অনির্বাচিত সরকারের কারণে অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানাসহ সব সেক্টর স্থবির হয়ে গেছে। তাই আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আগামী দিনে কেউ পকেট থেকে চিকিৎসার টাকা খরচ করবে না। কারিগরি শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে দেশের শ্রমিকরা বিদেশে ও দেশে আরও ভালো আয় করতে পারে।”

তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সুফল যাতে প্রত্যেক ঘরে পৌঁছায়, সেই লক্ষ্যেই বিএনপি কাজ করছে।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, “জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন বাঁশখালীর চারবারের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য। আজকের এই স্মরণসভাকে ঘিরে বাঁশখালীতে আবারও ধানের শীষের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারেক রহমান পাপ্পাকে মনোনয়ন দিয়েছেন—জনগণ এবার ধানের শীষের মাধ্যমে জাফরুলের প্রতি ভালোবাসা দেখাবে।”

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব ইদ্রিস মিয়া বলেন, “জাফরুল ইসলাম ছিলেন নিষ্ঠাবান, সংগ্রামী, আপোষহীন ও সবার আপনজন।”

মরহুমের ছেলে মিশকাতুল ইসলাম পাপ্পা বলেন, “আমার বাবা জীবনের শেষদিন পর্যন্ত ত্যাগ ও ভালোবাসা দিয়ে এই এলাকার মানুষের পাশে ছিলেন। আমিও আজীবন বাঁশখালীবাসীর পাশে থাকব।”

এছাড়া বক্তব্য দেন—এনামুল হক এনাম, এডভোকেট শওকত ওসমান, এডভোকেট নাছির উদ্দীন, এডভোকেট ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন, কামরুল ইসলাম হোসাইনী, এডভোকেট আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক, মরহুমের কন্যা ফারহানা ইয়াসমিন আঁখি প্রমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর