বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:০৩ অপরাহ্ন

রেল যোগাযোগে নতুন দিগন্ত: দক্ষতা ও সততায় আলোকিত প্রকৌশলী আফজাল

জাহাঙ্গীর আলম
  • রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২১১

বাংলাদেশের রেলওয়ে উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে এক উজ্জ্বল নাম প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন। টাঙ্গাইল জেলার চৌবাড়িয়া নামে এক প্রত্যন্ত গ্রামে এক শীতল ডিসেম্বর সকালে জন্মগ্রহণ করা এই মেধাবী ও কর্মনিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের হাত ধরেই রেল যোগাযোগের অবকাঠামো এবং ব্যবস্থাপনায় এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন অধ্যবসায়ী এবং প্রতিভাবান ছাত্র।

প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি এলাসিন তারক যোগেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (RUET)। ১৯৯১ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রথম বিভাগে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করে তিনি ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনের ভিত্তি তৈরি করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET) থেকে মাস্টার্স অব আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং (MURP) ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে তিনি পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা আরও বর্ধিত করেন।

কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ১৯৯৪ সালের ২৫ এপ্রিল ১৩তম বিসিএসের প্রকৌশল ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদান করেন। রেলওয়েতে অসাধারণ দক্ষতা, কর্মনিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করে তিনি পর্যায়ক্রমে নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে যান।

তার কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য দায়িত্বগুলোর মধ্যে..

সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী

বিভাগীয় প্রকৌশলী

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী

বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (পাকশী)

প্রধান প্রকৌশলী (পশ্চিম)

অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো)

মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত)

বাংলাদেশের জাতীয় রেলওয়ে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সঙ্গে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। উল্লেখযোগ্য জাতীয় প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:……

ঢাকার টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন নির্মাণ

খুলনা–মোংলা রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলসংযোগ প্রকল্প

তিনি এসব প্রকল্পে শুধু দায়িত্বই পালন করেননি, বরং প্রকল্প পরিচালকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার নেতৃত্বে পরিকল্পনা, নির্মাণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে যায়, যা ভবিষ্যতে রেলপথের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দেশ-বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণ, সেমিনার এবং কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে প্রকৌশলী আফজাল হোসেন রেলওয়ের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রয়োগ করেছেন। তিনি চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি দেশে রেলওয়ে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে আন্তর্জাতিক রেলপথ পরিকল্পনা ও নিরীক্ষণের জ্ঞান অর্জন করেছেন।

২০১৫ সালে রেলওয়ে সেবায় আমূল পরিবর্তন, রেল যোগাযোগের মানোন্নয়ন এবং আয় বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকার জন্য তিনি রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ সম্মাননা অর্জন করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন একজন পরিবারমুখী, নীতিবান ও সহজ-সরল মানুষ। তার স্ত্রী সৈয়দা রাশিদা হোসেন ও তিন সন্তান নিয়ে তিনি সুখী পরিবারে বাস করছেন। বড় কন্যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণরসায়নে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। ছোট কন্যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগে অধ্যয়নরত। ছোট সন্তান রাইয়ান রাশীদ প্রতি পদক্ষেপে বাবার মতো একদিন দেশের সম্পদ হয়ে উঠবে— এমন আশা চারদিকে।

কর্মজীবনে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে কিছু বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখে পড়লেও তিনি কখনোই নীতির পথ থেকে বিচ্যুত হননি। তিনি বিশ্বাস করেন— সকল অভিযোগের জবাব হতে হবে কর্ম ও সততা দিয়ে।

বাংলাদেশ রেলওয়েকে আরও আধুনিক, নিরাপদ, দ্রুতগামী ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার স্বপ্ন নিয়ে তিনি আজও কাজ করছেন। রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে জনগণের কাছে আরও সহজ, সাশ্রয়ী এবং কার্যকর করতে তিনি নতুন প্রযুক্তি, পরিকল্পনা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই যুগান্তকারী কর্মকাণ্ড, নেতৃত্ব এবং ব্যক্তিগত সততার জন্য প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন দেশের রেলওয়ে খাতে একটি উজ্জ্বল নাম হয়ে থাকবেন নিঃসন্দেহে। তার মতো মানুষের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে আগামী প্রজন্মের রেলপথের নকশা।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর