বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন

মানবতাবিরোধী অপরাধ: ফাঁসির আদেশ শেখ হাসিনা ও কামালের, রাজসাক্ষী মামুনের ৫ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক / বার্তা টুডে
  • সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৭

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জবাবদিহি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিস্ফোরক রায় ঘোষণা করেছে পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণা করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

রায়ের সারসংক্ষেপ

শেখ হাসিনা: মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড।

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল: একটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন: দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ায় ৫ বছরের কারাদণ্ড।

ট্রাইব্যুনাল তাদের রায়ে উল্লেখ করে, তিন আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। অভিযোগগুলোতে উসকানি, অস্ত্র ব্যবহার, খুন, লাশ পোড়ানোসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত ছিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম মামলাটি দায়ের করা হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। এর পর থেকে মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম চলতে থাকে।

১৭ অক্টোবর ২০২৪: গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
৩ আগস্ট ২০২৫: মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু
৮ অক্টোবর ২০২৫: সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

মোট ৮৪ সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জন সাক্ষ্য দেন। প্রথম সাক্ষী ছিলেন খোকন চন্দ্র বর্মণ, যিনি জুলাই-আগস্টের নৃশংস ঘটনার বর্ণনা দেন।

রায়ের ঘোষণাকে সামনে রেখে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সম্ভাব্য সহিংসতা সৃষ্টি করতে পারে—এমন আশঙ্কায় রবিবার থেকেই ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়।

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন:
ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত। সহিংস কর্মকাণ্ডে যুক্ত হলে প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করা হবে।”

রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন নিহতদের কয়েকজন পরিবারের সদস্য ও উভয় পক্ষের আইনজীবীরা। রায় পড়ার সময় আদালতের পরিবেশ ছিল শান্ত তবে তাৎপর্যময়। আদালতের বাইরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিও লক্ষ করা গেছে।

এ রায়ের মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গুরুতর অপরাধের বিচার নিশ্চিত হলো বলে মনে করছে রাষ্ট্রপক্ষ। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর