বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩০ অপরাহ্ন

কষ্ট নিয়ে এসে হাসিমুখে ফেরা—চট্টগ্রামে মানবিক ডিসির গণশুনানি আলোচনায়

নিজস্ব প্রতিবেদক / বার্তা টুডে
  • বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১২০

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বুধবার ভোর থেকেই মানুষের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করে। কারও হাতে জমির কাগজ, কারও কাছে নামজারির আবেদন, কেউ এসেছে শিক্ষা সহায়তার জন্য। সবার মুখে একই প্রত্যাশা—নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা তাদের কথা শুনবেন, সমাধান দেবেন।

দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দ্বিতীয় দিনেই যে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হলো, তা যেন পরিণত হলো মানুষের আশা আর মানবিক প্রশাসনের মিলনের এক অনবদ্য দৃশ্যে।

হলরুমে ঢুকতেই চোখে পড়ে নানা বয়সের মানুষের ভীড়।
এক বৃদ্ধা ওয়ারিশ সনদ জটিলতার কথা বলছেন কাঁপা গলায়;
এক যুবক অভিযোগ করছেন জমির রেকর্ডে প্রতারণার;
বাঁশখালী থেকে আসা মধ্যবয়সী ব্যক্তি লবণাক্ত পানি নিয়ে ভোগান্তির কথা বলছেন।

এ যেন মানুষের কষ্ট, আশা আর প্রত্যাশার এক সমবেত মঞ্চ।
আর সেই মঞ্চের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে ডিসি জাহিদুল ইসলাম
ফাইল নয়, মানুষের মুখ দেখছেন;প্রক্রিয়া নয়, সমস্যার সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

প্রতিটি অভিযোগে মনোযোগ—প্রতিটি সিদ্ধান্তে স্বস্তি

ডিসি স্যার একজন একজন করে ডাকছেন, শুনছেন, বুঝছেন।
তার প্রতিটি আচরণে ফুটে উঠছে মনোযোগ, ধৈর্য আর মানবিকতা।

রাঙ্গুনিয়ার এমরানের দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর

ভুয়া ওয়ারিশ সনদ নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ শুনে তিনি সংশ্লিষ্ট এসি ল্যান্ডকে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
এমরান বের হয়ে বলেন—
“আজ মনে হলো—আমাদের সমস্যার সত্যিকারের শেষ হলো।”

বাঁশখালীতে লবণাক্ত পানি—সরাসরি নির্দেশ

জাফর আহমদ জানান এলাকায় সুপেয় পানির সংকট।
ডিসি সঙ্গে সঙ্গে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগকে প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন।

শিক্ষার্থীর চোখে পানি—বোনের বেতন মওকুফ, নিয়মিত সহায়তার ঘোষণা

আর্থিক সংকটে পড়া এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তার ছোট বোনের স্কুল ফি মওকুফের আবেদন করেন।
ডিসি স্যার বোনের বেতন সরাসরি মওকুফ করেন এবং শিক্ষার্থীকে নিয়মিত সহায়তার ব্যবস্থা করেন।
শিক্ষার্থী আবেগে বলেন—“উনি শুধু শুনলেন না—আমাদের জীবন বাঁচিয়ে দিলেন।”

হলরুমজুড়ে একটাই প্রতিধ্বনি—‘মানবিক ডিসি’

অভিযোগ জানাতে আসা মানুষদের মুখের উদ্বেগ গণশুনানি শেষে বদলে গেছে স্বস্তি আর হাসিতে। কেউ সমাধান পেয়েছেন, কেউ আশ্বাসের আলো।

সবার মুখে মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে একটাই কথা—
“চট্টগ্রাম সত্যিকারের একজন মানবিক প্রশাসক পেয়েছে।”

দিনের শেষে ডিসি জাহিদুল ইসলাম বলেন—
“মানুষ যখন আশা নিয়ে আসে, তখন তাদের কথা শোনা ও সমস্যা সমাধানই আমাদের দায়িত্ব। এই অফিস সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।”

তার কথায় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিকতা নয়—পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকারই বেশি স্পষ্ট হলো।

গণশুনানি শেষ হলেও মানুষের মনে রয়ে গেছে একটাই চিহ্ন—
প্রশাসন শুধু নিয়ম মানার জায়গা নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্থানও হতে পারে।

আর সেই পরিবর্তনের নতুন প্রতীক—জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর