
চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃনগর ট্রেন ‘সোনার বাংলা এক্সপ্রেস’–এর আজ ২০ নভেম্বর৷ (বৃহস্পতিবার) টিকিট চেকিং কার্যক্রম, যাত্রীসেবা, ট্রেনের নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. শুবক্তগীন।
পরিদর্শনকালে তিনি ট্রেনের প্রতিটি কোচে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের মতামত শোনেন এবং সেবা মান আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। যাত্রীরা সোনার বাংলা ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা ও পরিষেবা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও আরও উন্নতমানের টয়লেট, পানির চাপ বৃদ্ধি এবং অনিয়মিত যাত্রীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
পরিদর্শন দলের তথ্য অনুযায়ী, যাত্রীদের সঠিক টিকিট যাচাই, অনধিকার প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং রেল রাজস্ব রক্ষা নিশ্চিত করতে টিকিট চেকিং কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। জিএম মো. শুবক্তগীন বলেন,“রেলের প্রতিটি টিকিট রাষ্ট্রের রাজস্ব—এটি রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। অনিয়ম বা কালোবাজারির সুযোগ কোনোভাবেই রাখা হবে না।”
ট্রেনের কোচ, করিডোর ও টয়লেটের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ট্রেন চলাকালীন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মনিটরিং বাড়ানো হয়। যাত্রী নিরাপত্তা জোরদার করতে অনবোর্ড সিকিউরিটি কর্মীদের কার্যক্রমও পরিদর্শন করা হয়।
জিএম আরও বলেন,“যাত্রীই রেলের প্রাণ। সেবা মান বৃদ্ধি, নিরাপদ যাতায়াত এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার।”
পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে দীর্ঘদিন ধরে রেলসেবা উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে—
আধুনিক কোচ সংযোজন
ই-টিকিটিং ব্যবস্থার উন্নয়ন
স্টেশনভিত্তিক যাত্রী তথ্যসেবা জোরদার
স্টেশন ও ট্রেনে নিরাপত্তা নজরদারি বৃদ্ধি
যাত্রীসেবায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্টাফ নিয়োগ
জিএম মো. শুবক্তগীন বলেন,“রেল উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। যাত্রীসেবা যত বাড়বে, জনগণের আস্থা ততই ফিরে আসবে। আমরা এমন একটি রেলসেবা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে মানুষ নিরাপদে, স্বাচ্ছন্দ্যে এবং নির্ভরতার সঙ্গে ভ্রমণ করতে পারবেন।”
ট্রেনে ভ্রমণরত যাত্রীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিয়মিত এমন মনিটরিং হলে সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে। তারা ট্রেনের ভেতরে পর্যাপ্ত পানি, টিকিটের ন্যায্য বণ্টন এবং অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।