বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন

“উপজেলা-ইউনিয়নে সেবাপ্রদান আরও মানবিক হতে হবে”— জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা

বার্তা টুডে ডেস্ক
  • শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৮৯

স্থানীয় পর্যায়ে বিচারিক সেবা আরও মানবিক ও সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদে আগত সেবাপ্রত্যাশীরা যেন সম্মান, সৌজন্য ও প্রয়োজনীয় সেবা পান—এটা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও মনোযোগী ও সেবামুখী হতে হবে।”

শনিবার (২২ নভেম্বর ২০২৫) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসন চট্টগ্রামের আয়োজনে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অর্ধ-বার্ষিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও করণীয় বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার, চট্টগ্রাম মোঃ শরীফ উদ্দীন। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন,
“স্থানীয় পর্যায়ে ছোট ছোট বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ না নিলে জনগণকে অযথা বারবার অফিস–আদালতে ঘুরতে হয়। এই ভোগান্তি দূর করতে গ্রাম আদালত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে হবে।”

তিনি সেবা প্রদানে আন্তরিকতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা–কর্মচারীদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেন।

সভাপতি মোঃ শরীফ উদ্দীন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। জনগণের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা ও পরিবেশ আরও উন্নত করা প্রয়োজন। তিনি চেয়ারম্যানদের আইনগত ক্ষমতা যথাযথভাবে প্রয়োগ করে ক্ষুদ্র অপরাধ ও বিরোধ স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির আহ্বান জানান।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রকল্পের বাস্তবায়ন সহযোগী সংস্থা ইপসা’র সহকারী পরিচালক ফারহানা ইদ্রিস।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফরিদুল আলম গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রকল্পের জেলা ম্যানেজার সাজেদুল আনোয়ার ভূঁঞা জানুয়ারি–অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত চট্টগ্রামের ১৯১টি ইউনিয়নের গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনে মামলার নিষ্পত্তি হার, সেবাগ্রহীতাদের সন্তুষ্টি এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়।

অগ্রগতি উপস্থাপনের পর মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন—
কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্র।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফখরুল ইসলাম।
ছদাহা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নুরুল আবছার।
লেলাং ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা খায়রুল আসলাম।

তারা মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং গ্রাম আদালত কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রস্তাব তুলে ধরেন।

চট্টগ্রাম জেলার ১৫টি উপজেলার ইউএনও, ১৯১টি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রাথমিক ক্ষেত্র হিসেবে গ্রাম আদালতকে আরও শক্তিশালী করতে হলে সকল পর্যায়ে আন্তরিকতা, প্রশিক্ষণ, সহযোগিতা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর