
ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ রুটে দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে থেমে থাকা ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন প্রকল্প এখনও প্রায় সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের স্থবিরতা ও স্টেশনের খারাপ অবস্থা যাত্রীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০১৫ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ রেল রুটে আধুনিক ও দ্বিগুণ লাইন স্থাপন করে দ্রুত, নিরাপদ ও মানসম্মত রেলসেবা নিশ্চিত করা। তবে নানা কারণে প্রকল্পের কাজ থেমে যায়। চার দফা সময় বৃদ্ধি সত্ত্বেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চায়না পাওয়ার কনস্ট্রাকশন ২০২৩ সালের মার্চে প্রকল্প ছেড়ে চলে যায়। তখন কাজের অগ্রগতি ছিল মাত্র ৪৭.৫ শতাংশ। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়। নতুন ঠিকাদারের অধীনে কাজ শুরু হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি এখনও সীমিত।
প্রতিদিনের যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে। ভাঙাচোরা স্টেশন ভবন, অপর্যাপ্ত ও খারাপভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা প্ল্যাটফর্ম, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং মানসম্মত টয়লেটের অভাব—সব মিলিয়ে নারী, শিশু ও কর্মজীবী মানুষদের জন্য যাতায়াত কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেক যাত্রী রেলের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে সড়কপথে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ে, ঢাকা বিভাগ শনিবার (২৪ নভেম্বর) সকালে ঢাকা রেলস্টেশন প্রাঙ্গণে গণশুনানি আয়োজন করে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী এবং স্টেশনের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। নারায়ণগঞ্জ রেল তথ্য গ্রুপের অ্যাডমিন সবুজ অহন কাজের ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) মো. সুবক্তগীন বলেন:“ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ রেলপথ আগামী বছরের মধ্যে চালু করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। আমরা আশা করছি নতুন ঠিকাদারের অধীনে প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতি লাভ করবে। ইতিমধ্যেই স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের রক্ষণাবেক্ষণ, সিগন্যালিং ব্যবস্থা ও যাত্রী সুবিধার উন্নয়নের জন্য কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হল যাত্রীদের নিরাপদ, দ্রুত ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা।”
তিনি আরও বলেন, “প্রকল্পের দীর্ঘ স্থবিরতার কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। আমরা শুধুমাত্র রেললাইন সম্প্রসারণেই সীমাবদ্ধ থাকছি না, বরং স্টেশন ভবন, প্ল্যাটফর্মের অবস্থা, টয়লেট সুবিধা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বর্ষার জলাবদ্ধতা নিরসনেও কাজ ত্বরান্বিত করছি। আমরা চাই, ২০২৬ সালের মধ্যে রুটটি সম্পূর্ণ সচল হয়ে প্রতিদিনের যাতায়াতকে সহজ ও সুবিধাজনক করে তুলুক।”
মো. সুবক্তগীন আরও জানান, রেলওয়ে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মনিটরিং ও অগ্রগতি রিপোর্টিং ত্বরান্বিত করবে, যাতে কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়। এছাড়া যাত্রীদের মতামত সংগ্রহ এবং স্টেশনের সার্বিক মান উন্নয়নের জন্য নিয়মিত গণশুনানির ব্যবস্থা থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে হলে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানো অপরিহার্য। যাত্রীদের দৈনন্দিন দুর্ভোগ কমানোর জন্য নতুন ঠিকাদারের অধীনে স্টেশন ও প্ল্যাটফর্ম উন্নয়ন, বর্ষায় জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সিগন্যালিং আধুনিকায়ন জরুরি।
যাত্রীরা আশা করছেন, নতুন ঠিকাদারের অধীনে প্রকল্প দ্রুত শেষ হবে। সঠিক সময়ে রেলসেবা চালু হলে যাতায়াতের সময় কমবে, সড়কপথের চাপ হ্রাস পাবে এবং ভোগান্তি ও নিরাপত্তা সমস্যা দূর হবে। দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা এখন রেলওয়ের বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতির দিকে কেন্দ্রীভূত।