বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:২৮ অপরাহ্ন

এক দশকে সেরা রাজস্ব—২০২৫ সালের ১০ মাসেই পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের টিটিই আয় ২২ কোটি ছাড়াল

জাহাঙ্গীর আলম
  • বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৪৮

বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর—এই ১০ মাসে টিকিট পরীক্ষায় টিটিইদের মাধ্যমে ভাড়া ও জরিমানা বাবদ মোট ২২ কোটি ৭৪ লাখ ৭১ হাজার ৮২১ টাকা আয় হয়েছে। পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীন দায়িত্ব নেওয়ার পর তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদারের ফলে এ আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে। এ সময়ে মোট ২০ হাজার ২০১টি ট্রেনে টিকিট পরীক্ষা পরিচালনা করা হয় এবং ৩১ হাজার ৫০১ জন টিটিই চেকিং কার্যক্রমে অংশ নেন, যেখানে টিকিটবিহীন ও অনিয়ম করা ৯৩ হাজার ৫৭২ মামলা শনাক্ত হয় এবং টিকিট যাচাই করা হয় ১৩ লাখ ৫৮ হাজার ৩৮টি।

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে দেশের অন্যতম ব্যস্ত করিডর, যেখানে প্রতিদিন ১৩৫–১৪০টি ট্রেন চলাচল করে। চট্টগ্রাম, সিলেট, নোয়াখালী, কুমিল্লা, আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর রুটে চলা এই ট্রেনগুলোর মধ্যে ইন্টারসিটি, মেইল/এক্সপ্রেস, কমিউটার এবং সীমান্তসংযোগকারী ট্রেনসহ শতাধিক যাত্রীবাহী সার্ভিস রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, আখাউড়া, ফেনী, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। এমন ব্যস্ত ট্রেন নেটওয়ার্কে শৃঙ্খলা রক্ষায় টিটিই কার্যক্রম শক্তিশালী করাই পূর্বাঞ্চলের আয় বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর জিএম মো. সুবক্তগীন টিটিই মনিটরিং সেল সক্রিয় করেন, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ টিকিট চেকিং দল বাড়ান এবং স্টেশন ও ট্রেনভিত্তিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে টিকিট জালিয়াতি, দালালচক্র ও অনিয়ম রোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। স্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার, সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা, অভিযোগ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করা এবং যাত্রীসেবা উন্নয়নেও ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়, যার ফলে পূর্বাঞ্চলে রেলসেবা আগের তুলনায় আরও শৃঙ্খল, নিরাপদ ও জনবান্ধব হয়েছে।

জিএম মো. সুবক্তগীন বলেন, “রেলওয়ে জনগণের সম্পদ। টিকিট ছাড়া ভ্রমণ শুধু নিয়ম ভঙ্গ নয়, রাষ্ট্রীয় ক্ষতি। আমরা শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার ওপর জোর দিচ্ছি। যাত্রীসেবায় আন্তরিকতা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সই আয় বৃদ্ধির মূল কারণ।” তিনি আরও বলেন, “পূর্বাঞ্চলে ট্রেন চলাচল, স্টেশন ব্যবস্থাপনা ও সেবা—সবখানেই মানোন্নয়ন হচ্ছে। আমার অভিজ্ঞতা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নিষ্ঠার ফলেই এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে। আমরা চাই পূর্বাঞ্চলকে দেশের সবচেয়ে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল রেল সেক্টর হিসেবে গড়ে তুলতে।”

মাসভিত্তিক আয়ের মধ্যে ২০২৫ সালের জুন মাসে সর্বোচ্চ আয় হয়—৪ কোটি ৭ লাখ টাকা। মার্চ, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসেও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়, যা পরিচালন দক্ষতা ও কঠোর নজরদারির ইতিবাচক প্রতিফলন। রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মিত অভিযান, সময়ানুবর্তিতা বৃদ্ধি, যাত্রী সচেতনতা এবং ডিজিটাল মনিটরিংয়ের কারণে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে এখন রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে দেশের সেরা অঞ্চলের অন্যতম।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর