
চট্টগ্রাম, – মেরিন ফিশারিজ একাডেমি হতে প্রশিক্ষণ শেষে ক্যাডেটরা আগামীতে গভীর সমুদ্রের অকুতোভয় কাণ্ডারী হিসেবে দেশের সামুদ্রিক খাতকে শক্তিশালী করবেন বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
২ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুরে একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ৪৪তম পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্যারেডের সভাপতিত্ব করেন মেরিন ফিশারিজ একাডেমির অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ হাসান।
উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “কঠোর অধ্যবসায় ও প্রগাঢ় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ক্যাডেটদের পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একাডেমির সীমিত প্রাঙ্গণ ছাড়িয়ে তারা বৃহত্তর কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছে। কঠোর পরিশ্রম, সময়ানুবর্তিতা, সততা, কর্মদক্ষতা, মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের বোধ আত্মস্থ করেই তারা দেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করবে।”
প্যারেড অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ক্যাডেটদের মধ্যে পদক বিতরণ করেন। খন্দকার তানভীর ইসলাম (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং) ‘বেস্ট অল রাউন্ডার গোল্ড মেডেল’ অর্জন করেন। এছাড়াও, অন্যান্য বিভাগে সিলভার মেডেল অর্জন করেন:
জাবের শাহরিয়ার (নটিক্যাল সায়েন্স)
মাইনুল ইসলাম (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং)
সাকিবুর রহমান (মেরিন ফিশারিজ)
মহিলা ক্যাডেটদের মধ্যে নুসরাত হোসাইন আনিকা (মেরিন ফিশারিজ) শ্রেষ্ঠ হিসেবে পদক লাভ করেন।
৪৪তম ব্যাচের পাসিং আউট প্যারেড-২০২৫ এ মোট ১১০ জন ক্যাডেট প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন, যাদের মধ্যে ১৭ জন নারী ছিলেন। পরবর্তীতে উপদেষ্টা সফল ক্যাডেটদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন।
প্যারেড অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর, মেরিন ডিপার্টমেন্ট, শিপিং অফিস, তথ্য অধিদফতর এবং অন্যান্য মেরিটাইম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।
উপদেষ্টা ফরিদা আখতার আরও বলেন, “ক্যাডেটরা তাদের প্রশিক্ষণ ও অর্জিত দক্ষতা দিয়ে ভবিষ্যতে দেশের সমুদ্রসম্পদ রক্ষা ও ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এটি দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।”