বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:০৫ অপরাহ্ন

১০ বছর পরও নতুন পে–স্কেল নাই: চট্টগ্রামে রেল শ্রমিকদের কঠোর আন্দোলনের ঘোষণায় উত্তাপ

বার্তা টুডে ডেস্ক
  • মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৩১

বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য জোটের উদ্যোগে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ৯ম জাতীয় পে–স্কেল কার্যকর করার দাবিতে চট্টগ্রামের সিআরবি চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১ ডিসেম্বর (রোববার) সকাল ১০টায় আয়োজিত এ কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন রেল শ্রমিকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এম আর মঞ্জু।

সমাবেশে রেলওয়ের বিভিন্ন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন—রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান, কারিগরি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এস কে বারী, রেল শ্রমিকদল কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বকর ছিদ্দিক, রানিং স্টাফ ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহেদ আলী, স্টেশন মাস্টার ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মাহমুদ হাসান, রেল শ্রমিকদল কেন্দ্রীয় মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা মনোয়ারা বেগম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মারুফ হোসেনসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলের বেশিরভাগ শ্রমিক–কর্মচারী। এছাড়া শামছুল আলম, মাহবুবুর রহমান, দেলোয়ার হোসেন, জিয়াউর রহমান, জাহেদুর রহমান, শাহরিয়ার, মেহেদি, বাবু, শরিফুল, কালাম, কাউসার, এনামুল, এহসান, মালেক, মনসুর, আওয়াল, ফিরোজ, কামাল, ফাতেমা বেগম, রফিকুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, সাবের হোসেনসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সমাবেশে অংশ নেন।

সভাপতি এম আর মঞ্জু বলেন,“রেলওয়ে ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা বহুদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমাদের দাবি পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু এখনো নিশ্চিত নই দাবি সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের কানে পৌঁছেছে কিনা। ২০১৫ সালে সর্বশেষ পে–স্কেল ঘোষণার পর ১০ বছর পার হয়ে গেছে, অথচ দুটি পে–স্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও এখনও একটি পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। জনগণের সরকার হলে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার দিতে আপত্তি কোথায়?” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “অনেক আমলা এখনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে ফাইল আটকে রাখছেন, ফলে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।”

রানিং স্টাফ ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান বলেন, “সরকারের অর্থ উপদেষ্টা বলেছেন এই সরকারের আমলে নাকি পে–স্কেল বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আমরা বলতে চাই—১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী যদি কর্মবিরতির ডাক দেয়, তার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে পে–স্কেল ঘোষণা না হলে কোনো স্তরের কর্মচারীই দায়িত্ব পালন করবে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ চাকরিজীবীদের হাঁসফাঁস অবস্থা তৈরি করেছে।”

কারিগরি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এস কে বারী বলেন,
আজ সারাদেশের শ্রমিক–কর্মচারীরা পে–স্কেল নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। অথচ দুঃখজনকভাবে অনেক কর্মচারী এখনো অফিসে উপস্থিত হয়ে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিক–কর্মচারীরা ঘরে ফিরবে না।”

রেল শ্রমিকদল কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বকর ছিদ্দিক বলেন,“সরকার পে–স্কেল কমিশন গঠন করলেও অর্থ উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্য শ্রমিকদের হতাশ করেছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকেই ৯ম পে–স্কেল ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি পূর্বের মতো টাইম–স্কেল, সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল এবং শিক্ষা ভাতা, বৈশাখী ভাতা, রেশন সুবিধাসহ অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানান তিনি।”

সমাবেশে বক্তারা বলেন—রেলওয়ে কর্মচারীরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও গণপরিবহনের প্রাণ। তাদের ন্যায্য অধিকার অগ্রাহ্য করলে সরকারি সেবায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। কর্মসূচি থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়—দাবি পূরণ না হলে ৫ ডিসেম্বর ঢাকায় আয়োজিত বৃহত্তর শ্রমিক সমাবেশে রেলওয়ের সব শ্রমিক–কর্মচারী অংশ নেবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর