চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, সমাজসেবায় রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শহীদ আবু তাহের চেয়ারম্যানের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বাদে মাগরিব মীরদার পাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ আয়োজন করা হয়।
রাউজান উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ এনাম উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জাসাসের সাবেক দপ্তর সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ সরোয়ার খান মনজু। পশ্চিম গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আমির আলীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা লোকমান হোসেন মেম্বার, মোহাম্মদ ইলিয়াস সওদাগর, মোহাম্মদ আতিকুল্লাহ, যুবদল নেতা ইয়াকুব বাদশা, রাউজান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক আজম আলী ও আনোয়ার শাহ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট মোহাম্মদ শাহেদ, সমাজসেবক হাজী আইয়ুব সওদাগর, হাজী আহমদ করিম, আমানত উল্লাহ, হাজী আবদুল গফুর, আবছার সওদাগর, বিএনপি নেতা নুরুন নবী, আজগর হোসেন, মোহাম্মদ এসকান্দার, রাউজান উপজেলা জিয়া মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ বাদশা চৌধুরী, বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন বাপ্পী, কায়ছার হামিদ দিদার, নেজাম উদ্দিন, ফয়সল, মাহববুল আলমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মিলাদ ও দোয়ায় বক্তারা বলেন, শহীদ আবু তাহের চেয়ারম্যান ছিলেন সাদা মনের মানুষ, সত্যবাদী ও ন্যায়পরায়ণ সমাজসেবক। স্থানীয় উন্নয়ন ও পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে তিনি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। সন্ত্রাস, চুরি ও ডাকাতি দমনে তিনি আপোষহীন অবস্থান নিয়েছিলেন। চেয়ারম্যান থাকাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, চৌকিদার, দফাদার ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে পুরো ইউনিয়নের একটি নিরাপত্তা ম্যাপ তৈরি করেছিলেন। সেই ম্যাপে কিছু স্থান ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করলে সন্ত্রাসীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় এবং নানা সময়ে প্রাণনাশের হুমকি দিলেও তিনি পিছপা হননি। পরবর্তীতে সন্ত্রাসীদের হামলায় তিনি নির্মমভাবে নিহত হন।
বক্তারা বলেন, “তিনি শহীদ হয়েছেন কিন্তু সন্ত্রাসীদের কাছে মাথা নত করেননি।” দীর্ঘ ২২ বছর পরও তাঁর হত্যাকারীদের বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। দ্রুত দায়ীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মিলাদ মাহফিলে শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়।