চট্টগ্রাম–১৬ (বাঁশখালী) সংসদীয় আসনে দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে দক্ষিণ জেলা বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পাকে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির হয়ে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেবেন।
আজ মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার হাতে তুলে দেওয়া হয়। মনোনয়নপত্র গ্রহণের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে “আলহামদুলিল্লাহ” লিখে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, নেতাকর্মী এবং বাঁশখালীর সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ। বাঁশখালীর মানুষের ভালোবাসা ও দলের ওপর অর্পিত এই দায়িত্ব আমার জন্য অনেক বড় একটি আমানত। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের আস্থায় আমি যে দায়িত্ব পেয়েছি, তা ইনশাআল্লাহ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব।”
তিনি আরও বলেন,“বাঁশখালীর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। আমি নির্বাচিত হলে এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানসহ মৌলিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বাঁশখালীকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্তকে বাঁশখালীর রাজনৈতিক অঙ্গনে সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, পাপ্পা দীর্ঘদিন ধরে বাঁশখালীর তৃণমূল রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। মাঠপর্যায়ের রাজনীতি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণেই তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা এবং সংগঠন পরিচালনার দক্ষতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পাকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, পাপ্পা দীর্ঘদিন ধরে বাঁশখালীর প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে নিয়মিত যাতায়াত করে সাধারণ মানুষের সুখ–দুঃখের কথা শুনে আসছেন। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজ-সরল আচরণ এবং অহংকারহীন উপস্থিতির কারণে তাঁর প্রতি জনগণের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই বাঁশখালী জুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও আশাবাদ লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার নেতৃত্বে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এই আসনে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।