চট্টগ্রামের হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ আমদানি-নিয়ন্ত্রিত সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে মোট ২ লাখ ৪৮ হাজার শলাকা (১২৪০ কার্টন) বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেট আটক করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।
কাস্টমস সূত্র জানায়, জব্দকৃত সিগারেটগুলো Mond ব্র্যান্ডের এবং সেগুলো দুবাই থেকে বাংলাদেশে আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল। কাস্টমস হাউস চট্টগ্রামের এআইআর শাখার সহযোগিতায় বিমানবন্দরের ‘বি’ শিফটের কর্মকর্তারা ৩১ ডিসেম্বর (বুধবার) রাত সাড়ে ৯টার দিকে অবতরণ করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নম্বর বিএস–৩৪৪-এর যাত্রীদের ব্যাগেজ তল্লাশি করে সিগারেটের এই চালান আটক করেন।
তল্লাশির সময় দুবাইফেরত যাত্রী মিনহাজুল করিম সজিবের কাছ থেকে ২০০ কার্টন, মিনহাজুল ইসলামের কাছ থেকে ৩৫০ কার্টন এবং কোনো মালিকানা দাবি না থাকা অবস্থায় আরও ৬৯০ কার্টন সিগারেট জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে ১২৪০ কার্টন সিগারেট অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের অপচেষ্টা করা হয়েছিল বলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, আমদানি নীতি আদেশ ২০২১–২৪ অনুযায়ী সিগারেট একটি নিয়ন্ত্রিত পণ্য। এসব পণ্যের প্রতিটি প্যাকেটে ‘ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’ শীর্ষক সংবিধিবদ্ধ সতর্কবার্তা ও ক্ষতিকর চিত্র সংবলিত সতর্কীকরণ থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু জব্দকৃত সিগারেটের প্যাকেটে এসব শর্ত প্রতিপালন করা হয়নি। তাছাড়া সিগারেট উচ্চ শুল্ক ও করযুক্ত পণ্য হওয়ায় শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে ব্যাগেজের মাধ্যমে চোরাচালানের চেষ্টা করা হচ্ছিল।
কাস্টমসের তাৎক্ষণিক ও কার্যকর তৎপরতার কারণে এই চোরাচালান প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। আটককৃত সিগারেটের চালানটি ডিটেনশন মেমো (ডিএম) মূলে কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রামের গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কাস্টমস আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।