
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া কেরানীহাট মা- শিশু জেনারেল হাসপাতালের সামনে ইট ও বালু ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
(২৮ জানুয়ারি) বুধবার দুপুরে হাসপাতালটির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল হক।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০১৬ সালের ২২ জানুয়ারি ১৩০ জন শেয়ার হোল্ডারের সমন্বয়ে কেরানীহাট মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে হাসপাতালটি সুনামের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। জমির মালিক পক্ষের সঙ্গে ১০ বছরের একটি চুক্তির মেয়াদ শেষে তা নবায়নের প্রক্রিয়া চলছিল। তবে জমির মালিক বদিউল আলম অসুস্থ থাকায় চুক্তি নবায়নের বিষয়টি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, ‘বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের লক্ষ্যে কেরানীহাট প্রগতিশীল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের শরণাপন্ন হলে জমির মালিকের ছেলে সাইফুল ইসলাম, রবিউল আলম ও মোহাম্মদ শাহেদ উপস্থিত থেকেও সমবায় সমিতির সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাতকানিয়া ক্যাম্পে যোগাযোগ করে। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে গত ১১ জানুয়ারি একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তী বৈঠকের তারিখ নির্ধারিত ছিল ২৫ জানুয়ারি। তবে হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম বাবরের নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে ২৪ জানুয়ারি বৈঠকের সময় পরিবর্তনের জন্য লিখিত আবেদন করা হয়।’
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও অভিযুক্তরা পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা করে ইট ও বালু সরিয়ে নেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
বর্তমানে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল হক প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের ডিএমডি মোহাম্মদ সোলাইমান বাবুল, এক্সিকিউটিভ মেম্বার ফরিদুল ইসলাম সিদ্দিকী, নাসির উদ্দিন ও আবু জাকারিয়া।
হাসপাতালের প্রবেশপথে ইট-বালু ফেলে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে মালিকপক্ষের সাইফুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে করা চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে ডিসেম্বর মাসে, বিল্ডিং এর কাজ করার জন্য এসব ইট-বালু আনা হয়েছে , তাছাড়া হাসপাতালের মেয়াদ শেষ হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী তাদেরকে আমরা সময় দিয়েছি, তাদের সাথে আমরা কয়েকবার বৈঠক করেছি, এখন তারা অন্যত্র চলে গিয়ে আমাদেরকে আমাদের ভবন বুঝিয়ে দিবেন ।