
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে ক্রমেই বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই গণসংযোগ, পথসভা ও ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ব্যস্ত হয়ে উঠছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এলাকার হাটবাজার, পাড়া-মহল্লা, সড়ক ও জনবহুল স্থানে প্রার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এই আসনে বিএনপি ও জামায়াত—উভয় দলের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
গণসংযোগকালে প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, তাঁদের সমস্যা শোনেন এবং এলাকার দীর্ঘদিনের অবহেলিত উন্নয়ন চাহিদার কথা সামনে আনেন। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি ও শ্রমিকবান্ধব নীতি গ্রহণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন—এসব বিষয় উঠে আসছে প্রচারণার মূল আলোচনায়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোটাররা এবার শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়নের স্পষ্ট রূপরেখা দেখতে চান। ফলে প্রার্থীরাও তাঁদের বক্তব্যে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

বিএনপি প্রার্থী: “সেবক হিসেবেই কাজ করতে চাই”
সাতকানিয়ায় দিনব্যাপী গণসংযোগকালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি জনপ্রতিনিধি নয়, বরং সাতকানিয়াবাসীর সেবক হিসেবে কাজ করতে চান।
তিনি বলেন, “সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায় না, শ্রমিকদের কাজের নিশ্চয়তা নেই। নির্বাচিত হলে কৃষক-শ্রমিকসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য কাজ করব।”
তিনি আরও বলেন, এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করাই তাঁর অগ্রাধিকার থাকবে।

জামায়াত প্রার্থী: “ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ার অঙ্গীকার”
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আলহাজ্ব শাহাজাহান চৌধুরী গণসংযোগকালে বলেন, তিনি দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও সে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান।
তিনি বলেন, “ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরুর কোনো বিভাজন থাকবে না। আমরা সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করে একটি সুশাসনভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে চাই।”
গণসংযোগকালে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্মীয় সম্প্রীতি, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন।
সাতকানিয়া–লোহাগাড়া আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে পরিচিত। এখানকার ভোটাররা সাধারণত উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও প্রতিনিধির ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেন। এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এলাকাবাসীর সঙ্গে আলাপকালে অনেকেই জানান, তারা প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড ও বিশ্বাসযোগ্যতাও মূল্যায়ন করছেন। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রচারণার ধরন ও বার্তা ভোটের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ সময় উভয় প্রার্থীর সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই এই আসনে প্রচারণার গতি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায় কোন দিকে যায়—সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুরো এলাকার মানুষ।