
আসন্ন পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধ মজুতদারি ও নৌপরিবহন খাতে অনিয়ম ঠেকাতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙ্গর এলাকায় জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে কঠোর অভিযান চালিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এ বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।
অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতে অভিযানে ব্যবহার করা হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের দুটি যুদ্ধজাহাজ এবং পাঁচটি দ্রুতগামী স্পিডবোট। অভিযানে নৌ পরিবহন অধিদপ্তর, নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তর এবং চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ও মেরিন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানকালে বহিঃনোঙ্গরে অবস্থানরত ২১টি লাইটার জাহাজকে নিবিড়ভাবে তল্লাশি করা হয়। এ সময় নির্ধারিত ‘৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্দর ত্যাগের নোটিশ’ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। পাশাপাশি একটি লাইটার জাহাজে অগ্নি নির্বাপণ ও নিরাপত্তা সরঞ্জামের ত্রুটি পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা আদায় করা হয়।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রমজানকে সামনে রেখে যেন কোনো অসাধু চক্র ভোগ্যপণ্যের সরবরাহে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে—সে লক্ষ্যেই এ নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বন্দরের বহিঃনোঙ্গর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে লাইটার জাহাজ আটকে রেখে অবৈধ মজুতদারি, সময়ক্ষেপণ ও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, চলমান এই কঠোর নজরদারির অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—এই প্রথম দুই মাসেই ১০টি বিশেষ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে মোট ১০৬টি লাইটার জাহাজ পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে আইন ও বিধি ভঙ্গের দায়ে ৫২টি জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সর্বমোট ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখা, জরুরি পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা মজুতদারির সঙ্গে আপস করা হবে না। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—বন্দরে শৃঙ্খলা রক্ষা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান এবং কঠোর আইনি তৎপরতা নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।