
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী মানুষের কল্যাণে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে রাজনীতি করে। জামায়াতে ইসলাম যদি ক্ষমতায় নাও আসে কোন সমস্যা নেই, তার জন্য কি আপনারা মনে মনে কষ্ট নিয়েছেন। আমরা এদেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমরা আগামীতে কোন দুর্নীতিবাজ, ব্যাংক লুটেরা, খারাপ লোককে ক্ষমতায় দেখতে চাই না।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সীতাকুণ্ডে সরকারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমীরে জামাত ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘জুলাইয়ে যুবসমাজ ও তরুণ-তরুণীরা রাস্তায় নেমে কি এই স্লোগান দিয়েছিলা- আমাদের হাতে বেকার ভাতা দাও। তোমরা স্লোগান দিয়েছিলা আমাদের হাতে মর্যাদার কাজ দাও। এটি আমার অধিকার। আমি কাজ করে দেশ গড়তে চাই। কারো কাছে বেকার ভাতা চাই না। আমরা কথা দিচ্ছি, আমরা বেকার ভাতার কোন আশেপাশেও যাবো না। আমরা প্রত্যেকটা যুবক-যুবতীর, তরুণ-তরুণীর হাতকে দেশ গড়ার কারীগরের মজবুত হাতে পরিণত করবো ইনশাআল্লাহ। আকবরের কাজ হাতে তুলে দিয়ে বলবো আগাও তুমিই বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, বেকার ভাতা গ্রহণ নয়, যুবক-যুবতীদের ইসলামের প্রথম খলিফা ও নবী মুহাম্মদের (সা.) শ্রেষ্ঠ সাহাবী অত্যন্ত সাহসী সিদ্দিকে আকবর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমিকর ডা. শফিকুর রহমান।
শফিকুর রহমান বলেন, ভোটারদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘টাকা দিয়ে ভোট চাইতে আসলে ধরে রেখে পুলিশকে দিবেন। নিজেরা আইন হাতে তুলে নিবেন না। আগে স্লোগান ছিলো আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব। এখন স্লোগান আমার ভোট আমি দেবো তোমার ভোট তুমি দাও। আমার বুথে হাত দিলে হাত ভেঙে গুড়ি করে দেওয়া হবে। এটি আমার অধিকার না অধিকারের সাথে দায়িত্বও বটে। আমার দেশ আমি গড়ব, তুমি কে?।
সমাবেশ শেষে চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাতটি সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় জোটের ছয়টিতে দাঁড়িপাল্লা ও একটিতে রিকশা প্রতীক প্রার্থীদের হাতে তুলে দিয়ে নেতাকর্মীদের সম্মুখে পরিচয় করিয়েন দেন জামায়াতে আমীর। সমাবেশে জেলা জামায়াতসহ খেলাফত মজলিস, এনসিপি, এবি পার্টি, জাগপাসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য দেন।
জেলা জামায়াতের আমীর আলাউদ্দিন সিকদারের সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচনী পরিচালক ফজলুল করিমের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জোরারগঞ্জ উপজেলা আমীর মাওলানা নুরুল হুদা হামিদী, মিরসরাই উপজেলা আমীর মাওলানা নুরুল কবির, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা হাসান মুরাদ, রাউজান উপজেলা আমীর- শাহজাহান মজু, হাটহাজারি উপজেলা ভারপ্রাপ্ত আমীর- অধ্যাপক শোয়াইব চৌধুরী, ভুজপুর উপজেলা আমীর- অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, ফটিকছড়ি উপজেলা আমীর- নাজিম উদ্দীন ইমু, সন্দ্বীপ উপজেলা আমীর- মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফিরোজ, আকবরশাহ থানা আমীর- অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী, সীতাকুন্ড উপজেলা আমির মাওলানা মিজানুর রহমান, নেজামে ইসলাম পার্টি- মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ আলী, এবি পার্টি জিয়া চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস- মাওলানা জাফরুল্লাহ নিজামী, এনসিপি-শাগুফতা বুশরা মিশমা, হাসান ইমাম আলন পরিচালক (ছাত্র), উত্তর জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি-শওকত আলী, চবি শিবির সভাপতি ও চাকসু ভিপি- ইব্রাহীম রনি, ডাকসু ভিপি, এস এম ফরহাদ, কেন্দ্রীয় তত্ত্বাবধায়ক-ইব্রাহিম, সনাতন প্রতিনিধি দোলন দেব, চট্টগ্রাম-১ আসনের প্রার্থী এডভোকেট সাইফুর রহমান, চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ নুরূল আমিন, চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৫ আসনের প্রার্থী নাসির উদ্দীন মনির, চট্টগ্রাম-৬ আসনের প্রার্থী শাহজাহান মঞ্জু, চট্টগ্রাম-৭ আসনের প্রার্থী ডাঃ এটিএম রেজাউল করিম, উত্তর জেলা শ্রমিক সভাপতি ইউসুফ বিন আবু বকর, অধ্যাপক নূরুল আমিন চৌধুরী, অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান।
তার এই আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা মিছিলসহ সীতাকুণ্ড সদরে জড়ো হতে থাকেন।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে দেশে সামাজিক ন্যায়বিচার ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আমীরে জামাতের আগমন উপলক্ষে সীতাকুণ্ড পৌর সদর থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে তোরণ ও পোস্টার লাগানো হয়। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি জামায়াতের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করে। সমাবেশে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ও সীতাকুণ্ড উপজেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।