বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৬ অপরাহ্ন

আমিলাইষ ইউনিয়নে বিএনপির সেন্টার কমিটি নিয়ে বিতর্ক, আওয়ামী ঘনিষ্ঠদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ

বার্তা টুডে ডেস্ক
  • বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৯৩

সাতকানিয়া উপজেলার ৫ নম্বর আমিলাইষ ইউনিয়নের বিভিন্ন ভোট সেন্টার কমিটি গঠনে ত্যাগী ও নির্যাতিত বিএনপি নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও সুবিধাভোগীদের অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ,
সাতকানিয়া-লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম-১৫) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আওতায় গঠিত কয়েকটি সেন্টার কমিটিতে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করা হয়েছে। বরং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ও তাদের দোসর হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা দলীয় নীতির পরিপন্থী।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ৫ নম্বর আমিলাইষ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ডলু প্রাথমিক উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র। স্থানীয়দের দাবি, ওই কেন্দ্রের সেন্টার কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ ইলিয়াস নামে এক ব্যক্তিকে, যিনি অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং খাতুনগঞ্জের একজন বড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এলডিপির নেতা ইব্রাহিম মেম্বারকে আর্থিক সুবিধা দিয়ে ওই দায়িত্ব নিয়েছেন।

 

স্থানীয় বিএনপি নেতারা আরও দাবি করেন, মোহাম্মদ ইলিয়াস কখনো বিএনপির কোনো সভা-সমাবেশে সক্রিয়ভাবে অংশ নেননি এবং নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ পার হলেও তাকে মাঠে দেখা যায়নি।

এছাড়া একই সেন্টার কমিটির আরেক সদস্য মোহাম্মদ হাসান (গোল চিহ্ন) নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, তিনি অতীতে আমিলাইষ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে যৌথভাবে বালু ও গাছের ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি নিজেকে বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও আওয়ামী লীগের সময়ের সংশ্লিষ্টতা থেকে বাঁচতে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সেন্টার কমিটির দায়িত্ব নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী দাবি করেন, শুধু একটি কেন্দ্র নয়—আমিলাইষ ইউনিয়নের প্রায় সবগুলো সেন্টার কমিটির অবস্থাই একই রকম। এতে করে দলের ত্যাগী, পরীক্ষিত এবং নির্যাতিত নেতাকর্মীরা চরমভাবে হতাশ ও ক্ষুব্ধ।

তারা বলেন, এখনো সময় আছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচনী মাঠে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই অবিলম্বে আমিলাইষ ইউনিয়নের সব বিতর্কিত সেন্টার কমিটি বাতিল করে প্রকৃত ত্যাগী ও পরীক্ষিত বিএনপি নেতাকর্মীদের দিয়ে নতুন করে কমিটি গঠনের দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করে তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলেন, দলের ভাবমূর্তি ও নির্বাচনী স্বার্থ রক্ষায় অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর