বাংলাদেশ রেলওয়ের ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য পে-স্কেল ও মর্যাদা আদায়ের দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ, কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে ১১–২০ গ্রেড সরকারি কর্মচারী ফোরাম।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগসহ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন শাখা ও শ্রেণীর কর্মচারীরা সকাল থেকে কর্মবিরতিতে অংশ নেন।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন ১১–২০ তম গ্রেড কর্মচারী ফোরামের আহ্বায়ক জনাব মোঃ মাহবুবুর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম।

বক্তারা জানান, দীর্ঘ ১০ থেকে ১১ বছর ধরে ১১–২০ তম গ্রেডের কর্মচারীরা নিয়মিত পে-স্কেল ও প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। এতে কর্মচারীদের জীবনে চরম আর্থিক সংকট নেমে এসেছে। তারা বলেন, কর্মচারীরা ভিক্ষা নয়—নিজেদের ন্যায্য কর্মমূল্য ও মর্যাদা রাষ্ট্রের কাছ থেকে পেতে চায়।
ফোরামের পক্ষ থেকে সকল ধরনের বৈষম্য প্রত্যাহার করে অবিলম্বে কর্মচারীদের স্ব-গঠিত পে কমিশন বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন—
বাংলাদেশ রেলওয়ের কারিগর পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি এস কে বারী,প্রচার সম্পাদক মোঃ ফারুক হোসেন,
রেল শ্রমিক দলের সিসিএস পাহাড়তলী শাখার সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ কামাল হোসেন,ডিজেল শপ শাখার সভাপতি মোহাম্মদ রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাদ্দাম হোসেন,কারখানা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল কবীর,চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ নজরুল ইসলামসহ,মোহাম্মদ ইব্রাহিম, ইসমাইল, নুরুন্নবী, মাহবুবুর আলম, আরিফ মির্জা, আবু মনসুর খান, দেলোয়ার হোসেন সুমন, শরিফসহ সর্বশ্রেণীর শ্রমিক ও কর্মচারী নেতৃবৃন্দ।
রেল শ্রমিক দলের সিসিএস শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন তার বক্তব্যে বলেন,“বৈষম্য দূর করার দাবিতে গত ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম চলছে। সর্বদলীয় ছাত্র, কৃষক ও শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই বৈষম্য আজও রয়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন,“পে কমিশন গঠনের নামে বারবার সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। মিটিংয়ের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও বাস্তবে কর্মচারীদের কোনো সুফল মিলছে না। এটি কর্মচারীদের সঙ্গে নিছক তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়।”
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি আদায় না হলে প্রয়োজনে রেলওয়ের চাকা ঘোরানো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মচারীরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা শহীদ শাহজাহান মাঠ সংলগ্ন টাইগারপাস ও পাহাড়তলী অভিমুখী সড়ক সাময়িকভাবে অবরোধ করেন।
পরবর্তীতে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশনায় এসআই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
এরপর ১১–২০ তম গ্রেডের কর্মচারীরা সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগীয় কন্ট্রোল অফিসের সামনে দীর্ঘ সময় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।