চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনা থেকে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণভাবে সরে আসার দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। একই সঙ্গে বন্দরকেন্দ্রিক আন্দোলনে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সকল শাস্তিমূলক ও হয়রানিমূলক পদক্ষেপ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
৮ জানুয়ারি (রোববার) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিস্তারিত বিবৃতিতে সংগঠনটির সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর জানান, গত ৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আলোচনার প্রেক্ষিতে মাননীয় উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেছেন—বর্তমান সরকারের আমলে এনসিটি চুক্তি আর করা হবে না। এমনকি ডিপি ওয়ার্ল্ডও এ বিষয়ে সময় চেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের মতে, কেবল বক্তব্য বা আশ্বাস যথেষ্ট নয়। সংগঠনটি মনে করে, ডিপি ওয়ার্ল্ড ও সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি থেকে স্থায়ীভাবে সরে আসার ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন থামানো যাবে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য নির্বিঘ্ন রাখতে, পবিত্র মাহে রমজান ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বিবেচনায় রেখে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংগঠনের ঘোষিত ধর্মঘট কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সাথে ভাবছিলেন। কিন্তু তার আগেই বন্দর কর্তৃপক্ষ ধারাবাহিকভাবে দমনমূলক ও শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আন্দোলনের পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সংগঠনের অভিযোগ অনুযায়ী—
আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট পাঁচজন বন্দর কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে,
চট্টগ্রাম বন্দর থানা, ডবলমুরিং ও আকবরশাহ থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে,
আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বদলি কার্যকর করা হয়েছে,
দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পত্র প্রেরণের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে,
কর্মচারীদের বরাদ্দকৃত সরকারি বাসা বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ১৪ জন বন্দর কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ এসব সিদ্ধান্তকে ‘স্বৈরাচারী, হয়রানিমূলক ও আন্দোলন দমনের অপচেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির নেতাদের ভাষ্য, কর্তৃপক্ষের এই মনোভাবই কর্মসূচি স্থগিতের বিষয়ে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে এনসিটি চুক্তি বাতিলের বিষয়ে স্পষ্ট ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে গৃহীত সকল হয়রানিমূলক পদক্ষেপ প্রত্যাহার করে, তাহলে কর্মসূচি পুনর্বিবেচনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। অন্যথায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
বিবৃতিতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে বিষয়টি জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট উল্লেখ করে গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন—মো. হুমায়ুন কবীর, সমন্বয়ক
মো. ইব্রাহিম খোকন, সমন্বয়, চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।