চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় এক যুবককে অপহরণ, নির্যাতন এবং ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী আবদুল করিম এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী জানান, তিনি সাতকানিয়া সরকারি কলেজ থেকে ২০১২ সালে এইচএসসি, ২০১৮ সালে বিবিএ এবং ২০২০ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোনো অপকর্মের অভিযোগ নেই বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমানে তিনি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন চাকরিতে নিয়োজিত আছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ডলুনদী এলাকায় অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের নিয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হয়। এর জের ধরে ‘এনসিপি’ পরিচয়ধারী রাব্বি ও তার ভাই রায়হান তার বাড়িতে এসে হুমকি প্রদান করে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আবদুল করিম বলেন, কয়েকদিন আগে সন্ধ্যার পর তিনি সাতকানিয়া সি-ওয়ার্ল্ড এলাকায় যাওয়ার পথে একদল দুর্বৃত্ত তাকে অপহরণ করে কেরানীহাট রেললাইনের পাশে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর করা হয় এবং তার মানিব্যাগ, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জোরপূর্বক আপত্তিকর বক্তব্য বলিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হলে তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় আবদুল করিম সাতকানিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তিনি সাতকানিয়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।