
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় কৃষিজমির মাটি কাটার সঙ্গে সম্পৃক্ত মাটিখেকোদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছেন সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের তেমুহনী বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
এ সময় মাটি কাটার সঙ্গে সম্পৃক্ত আব্দুল মোমেন (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে আটক পরবর্তী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মোমেন সাতকানিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছিটুয়া পাড়ার বাসিন্দা মো. জাকারিয়ার পুত্র।
জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা বিশেষ শাখার (ডিএসবি) নির্দেশনা অনুযায়ী রাতের আঁধারে কৃষিজমির মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহের খবর পেয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে সাতকানিয়া থানা পুলিশের দুটি টিম উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের তেমুহনী বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে মাটি কাটার সঙ্গে সম্পৃক্ত আব্দুল মোমেনকে আটক করা হয়। এরপর বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানকে জানানো হয়। পরবর্তী তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী মোমেনকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন- ২০১০ এর ১৫ (১) ধারায় ৫ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সময় পুলিশের উপস্থিতির টের পেয়ে ঘটনাস্থলে দুটি এক্সক্যাভেটর রেখে চাবি নিয়ে চালক পালিয়ে যায়। এরপর এক্সক্যাভেটর দুটি বিকল করে দেওয়া হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান বলেন, আব্দুল মোমেন নামের ওই ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট আইনে ৫ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আব্দুল মোমেনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়৷ এ সময় তিনি কৃষিজমির মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ ছাড়াও মোমেন আমাদেরকে জানিয়েছেন, স্থানীয় বাবর আহমেদ নামের এক ব্যক্তি মাটি কাটার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পরে তার খোঁজে সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হলেও ঘটনাস্থলে তাকে পাওয়া যায়নি। কৃষিজমির মাটি কাটার বিরুদ্ধে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।