
জুলাইয়ের সরকারবিরোধী আন্দোলন ঘিরে চট্টগ্রামে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) নতুন কমিশনার, উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক হাসান মো. শওকত আলী। তিনি বলেছেন, এসব মামলার অগ্রগতি বর্তমানে ৮২ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটায় চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোট ১৫১টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ৬৯টি মামলা নগর ও জেলার ৯টি থানায় রুজু হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আদালতে নালিশি (সিআর) মামলা হিসেবে দায়ের করা হয়েছে।
এসব মামলায় এজাহারভুক্ত আসামির সংখ্যা ১৩ হাজার ৪৫০ জন। এছাড়া অজ্ঞাত পরিচয়ের আসামির সংখ্যা অন্তত ৩০ হাজার। আসামিদের তালিকায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার মানুষও রয়েছেন।
চট্টগ্রামের থানাগুলোতে দায়ের হওয়া ৬৯টি মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ২১ হাজার ৯০৬ জন। এসব মামলার মধ্যে ১৫টি হত্যা মামলা রয়েছে। ইতোমধ্যে একটি মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সিএমপি কমিশনার বলেন, “মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে কাজ করছেন। তাদের ওপর কোনো ধরনের চাপ নেই। সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে সময় লাগছে, তবে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।”
তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রায় ২০ মাস পার হলেও মামলাগুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। নিহতদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন দপ্তর থেকে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হলেও নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই তৎপরতা কমে গেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, তদন্ত কার্যক্রমে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বিশেষ করে সাক্ষী হাজির করতে না পারা, ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং পুনর্বাসন বা আর্থিক সহায়তার অভাব তদন্তকে ধীরগতির করে তুলছে। অভিযোগ রয়েছে, নতুন সরকারের পক্ষ থেকেও শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে তেমন যোগাযোগ করা হয়নি।
অন্যদিকে, চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদ আলী খান ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর বিষয়ে কমিশনার বলেন, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আগের কমিশনার ইন্টারপোলের মাধ্যমে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বর্তমান কমিশনার হিসেবে তিনিও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রামকে কোনোভাবেই সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া হবে না। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে।”
সর্বশেষে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে সিএমপি’র চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলেও আশ্বাস দেন নতুন কমিশনার।