মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০২ পূর্বাহ্ন

সাতকানিয়ায় বসতবাড়িতে হামলা-লুটপাট: সংবাদ সম্মেলনে বিচার চাইল ভুক্তভোগী পরিবার

সাতকানিয়া প্রতিনিধি চট্টগ্রাম
  • শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৩২

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নে পরিকল্পিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের মধ্যে শুক্রবার (৩ এপ্রিল ২০২৬) ভুক্তভোগী পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতের আঁধারে ধর্মপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদেরপাড়া এলাকায় আকতার আহমদের বসতবাড়িতে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

সংবাদ সম্মেলনে আকতার আহমদের ভাই শাহ আলম অভিযোগ করেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা ইলিয়াস চৌধুরীর ইন্ধনে এ হামলা সংঘটিত হয়েছে। তিনি বলেন, “ইলিয়াস চৌধুরীর নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় ফরিদ মিয়া, ভোলা চক্রবর্তী, আশিক, শহিদ উদ্দিন, সুমন, হানিফ, সাজ্জাদ, মামুন, আমির হোসেন, ফয়সাল, আব্দুল মান্নান, দেলোয়ার, ইফতেখার ও মিজানসহ ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র দল আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়।”

তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের পরিবারের ওপর একাধিকবার হামলা হয়েছে। “আমাদের রাজনৈতিকভাবে দমিয়ে রাখতে এবং এলাকা থেকে সরিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে,” যোগ করেন শাহ আলম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্মপুর ইউনিয়নে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে আকতার আহমদ ও ইলিয়াস চৌধুরীর মধ্যে বিরোধ চলমান রয়েছে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রভাব বিস্তার ও প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করতে এ ধরনের সহিংসতার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক চেয়ারম্যান ইলিয়াস চৌধুরী বলেন, “আমি নির্বাচনে অংশ নেব, তবে কারও ওপর হামলা বা আধিপত্য বিস্তারের কোনো প্রশ্নই আসে না। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

এ বিষয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, “ধর্মপুরে হামলার ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। প্রাথমিকভাবে এটি রাজনৈতিক বিরোধজনিত ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসীও।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর