
নতুন রেলস্টেশন সংলগ্ন পার্কিং ইজারা নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু সংবাদকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পুরো বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের স্থগিতাদেশ এখনো বহাল রয়েছে।
এ বিষয়ে রেলওয়ের প্যানেল আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো: আক্তারুজ্জামান লিখিতভাবে জানিয়েছেন, মামলায় প্রদত্ত স্টে অর্ডার এখনো কার্যকর রয়েছে এবং এই অবস্থায় বাংলাদেশ রেলওয়ের কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা সমীচীন নয়।
তবে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে পার্কিং দখলকে “অবৈধ” উল্লেখ করে এবং রেলের রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরাসরি নাকচ করেছেন।
তাদের দাবি, বিষয়টি সম্পূর্ণ বিচারাধীন থাকায় আদালতের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে বর্তমান অবস্থা আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ, কোনো অনিয়ম বা অবৈধ দখল নয়।
রেলওয়ের নথিপত্রে আরও দেখা যায়, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে রাখেনি, বরং দ্রুত সমাধানের জন্য আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।
অন্যদিকে, প্রতিবেদনে যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাচাইবিহীন এমন অভিযোগ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার শামিল।
সচেতন মহলের মতে, আদালতে বিচারাধীন কোনো বিষয়কে একতরফাভাবে “অবৈধ দখল” বা “রাজস্ব লুট” হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী।
সার্বিক বিবেচনায় দেখা যায়, চট্টগ্রাম রেলওয়ের পার্কিং ইস্যুটি এখনো আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। আদালতের স্থগিতাদেশ বহাল থাকা অবস্থায় এ বিষয়ে যেকোনো ভিন্ন ব্যাখ্যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।