
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালের ল্যাবে রক্ত পরীক্ষায় ভুল রিপোর্ট দেওয়ার ঘটনায় চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভুল রিপোর্টের কারণে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়লেও শেষ পর্যন্ত সচেতনতার কারণে প্রাণে বেঁচে গেছেন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী।
জানা গেছে, গত ১৭ মার্চ উপজেলার বটতলী স্টেশন সংলগ্ন কাঁচাবাজার এলাকায় অবস্থিত সাউন্ড হেলথ হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নিতে যান সাতকানিয়া উপজেলার গারাঙ্গিয়া এলাকার বাসিন্দা ছালমা আক্তার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক ডা. মিতালি কর্মকারের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
সেদিন চিকিৎসক তার শরীরে রক্তস্বল্পতা রয়েছে জানিয়ে রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। হাসপাতালের নিজস্ব ল্যাবে পরীক্ষা করালে রিপোর্টে তার রক্তের গ্রুপ দেখানো হয় “এবি পজিটিভ”। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে রক্তদাতা সংগ্রহ করে তাকে রক্ত দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
তবে রক্তের গ্রুপ নিয়ে সন্দেহ হলে ছালমা আক্তার অন্য একটি হাসপাতালে পুনরায় পরীক্ষা করান। সেখানে তার রক্তের গ্রুপ “ও পজিটিভ” আসে। পরে আরও নিশ্চিত হতে লোহাগাড়া সিটি হাসপাতাল লিমিটেড, মা ও শিশু হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষা করালে সব জায়গাতেই “ও পজিটিভ” ফলাফল পাওয়া যায়। এতে নিশ্চিত হয় যে প্রথম হাসপাতালের রিপোর্টটি ভুল ছিল।
ভুক্তভোগী ছালমা আক্তার বলেন, “আমি যদি দ্বিতীয়বার পরীক্ষা না করাতাম, তাহলে বড় ধরনের বিপদ হতে পারত। একটি স্বনামধন্য হাসপাতালে এমন ভুল খুবই ভয়ংকর।” তিনি এ ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
লোহাগাড়া রক্তদান গ্রুপের মডারেটর মো. ইয়াছিন জানান, “ভুল রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা ‘এবি পজিটিভ’ ডোনার প্রস্তুত করেছিলাম। পরে জানা যায় রোগীর গ্রুপ ‘ও পজিটিভ’। এমন ভুল হলে রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়ে যেতে পারে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ল্যাব টেকনোলজিস্ট জেহেরান হোসাইন ভুল স্বীকার করে বলেন, ব্যবহৃত রিএজেন্টের সমস্যা থাকতে পারে। তবে কোন কোম্পানির রিএজেন্টে সমস্যা হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পারেননি ল্যাব কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে হাসপাতালের ভেতরে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যও পাওয়া গেছে।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইকবাল জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। এমন ভুলের কারণে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। হাসপাতালটিকে শোকজ করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের যোগ্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, লোহাগাড়ায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিয়মনীতি মানার ক্ষেত্রে চরম অবহেলা রয়েছে। যথাযথ তদারকি না থাকায় এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা।
ঘটনাটি জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।