
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় জলকদর খাল দখল করে একের পর এক পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাড় দখল করে প্রভাব খাটিয়ে ভবন ও দোকান নির্মাণের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার শেখেরখীল সরকার বাজার ফাঁড়ির মুখ এলাকায় খালের জায়গা দখল করে বিশাল আকৃতির একটি পাকা ভবন নির্মাণ করছেন জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে তিনি প্রায় ২০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫০ ফুট প্রস্থ জায়গা দখল করে পানির উপর ভবন নির্মাণ করছেন।
এছাড়া একই উপজেলার গন্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা খাটখালী এলাকায় বাঁধের পাড় দখল করে মসজিদের নাম ব্যবহার করে দোকান নির্মাণ করছেন হারুনুর রশিদ চৌধুরী (প্রকাশ টিপু মিয়া)। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অবৈধ দখল দেখে অন্যরাও উৎসাহিত হয়ে খালের পাড় দখল করে দোকান, বরফ মিল ও ফিশিং ঘাট নির্মাণে ঝুঁকছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “খালের পাড় দখল করে একের পর এক পাকা দালান, বরফ মিল ও মাছ আনা-নেওয়ার ঘাট তৈরি করা হচ্ছে। দেখার যেন কেউ নেই, যার যা ইচ্ছে করছে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে হারুনুর রশিদ চৌধুরী জানান, সংশ্লিষ্ট জায়গা তাদের পূর্বপুরুষের সম্পত্তি এবং মসজিদের জন্য দান করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “শুধু আমি না, আশপাশের অনেক জায়গায় একইভাবে স্থাপনা গড়ে উঠেছে। আগে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামশেদুল আলম বলেন, “বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল জানান, শেখেরখীল এলাকায় খাল দখল করে নির্মাণাধীন ভবনের কাজ ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিম বড়ঘোনা খাটখালী এলাকায় বাঁধের উপর নির্মাণকারীদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ বা খালের জায়গায় কোনো স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। দ্রুত দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, খাল দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি আরও